TrickBlogBD.com

Gain and Give knowledge

Health Tips

চোখের সমস্যা ও চোখের যত্ন | দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করার উপায়

Advertisements

মানুষের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর মধ্যে চোখ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই চোখের কারণেই আমরা এই সুন্দর দুনিয়াটা দেখতে পারি৷ তবে, বর্তমানে আমাদের একটি বড় হচ্ছে চোখের সমস্যা। আজকে চোখের সমস্যা ও চোখের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি জানবো।

চোখের সমস্যা ও চোখের যত্ন (চোখ)
চোখের সমস্যা ও চোখের যত্ন (চোখ)

এই সমস্যা শুধু বয়স্কদের নয়, বয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদের ও চোখে সমস্যা রয়েছে। বরং বড়দের চাইতে শিশুদের চোখে সমস্যা বেশী।

Advertisements

চোখ হচ্ছে আলোক- সংবেদনশীল অঙ্গ। এক তথ্য মতে, প্রায় ৬০০ মিলিয়ন বছর আগে প্রাণীদের মধ্যে প্রথম আদি চোখ অভিব্যক্ত হয়।

আমাদের চোখের পিছনের অংশে একটি অঙ্গ আলো নিক্ষেপের কাজ করে থাকে। সেটি হচ্ছে চোখের রেটিনা।

এক নজরে সম্পূর্ণ পোস্ট

চোখের বিভিন্ন অংশ

আমাদের শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশ চোখ। চলুন, চোখের বিভিন্ন অংশের নাম সমূহ দেখে নেই।
এগুলো হচ্ছেঃ

Ads by TrickBlogBD
  • ১/ স্ক্লেরা
  • ২/ কর্নিয়া
  • ৩/ অ্যাকুয়াস হিউমাস
  • ৪/ আইরিশ
  • ৫/ পিউপিল
  • ৬/ রেটিনা
  • ৭/ ভিট্রেয়াস হিউমার
  • ৮/ লেন্স
  • ৯/ কোরয়েড
  • ১০/ ফোবিয়া
  • ১১/ অন্ধবিন্ধু
  • ১২/ দর্শন স্নায়ু

সাধারণত এগুলোই হচ্ছে চোখের বিভিন্ন অংশের নাম সমূহ। আমাদের এই নাম সমূহ জানা উচিত। কারণ, যারা নবম- দশম শ্রেনীতে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করে তাদের এই বিষয় জানা দরকার৷

এগুলো তাদের পড়ালেখার অংশ। তাই আমাদের উচিত এসব অংশের নাম জানা। শুধু চোখের এই সব অংশের নাম জানলেই হবে না, চোখের এই সব অংশের কাজ ও জানা দরকার৷

চোখের বিভিন্ন অংশের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

নিম্নে মানুষের চোখের বিভিন্ন অংশসমূহের ছোট বর্ণনা দেয়া হলোঃ

চোখের বিভিন্ন অংশ (চোখের সমস্যা ও যত্ন)
চোখের বিভিন্ন অংশ

স্ক্লেরা

চোখের এই অংশটি সাদা। এটা চোখের ভিতরে অনেকটা জায়গা জুড়ে অবস্থিত। অ্যাকুয়াস হিউমার ও ভিট্রিয়াস হিউমার মিলিত হয়ে চোখের ছোট অংশগুলোকে নানাভাবে রক্ষা করে। তবে, এর ভিতরে আলো প্রবেশ ভিতরে পারে না।

কর্নিয়া

শ্বেতমন্ডলের সামনের অংশকে কর্নিয়া বলা হয়। এটি চোখের সামনের অংশ ঢেকে রাখে। চোখের বহিরাবরণ ও সামনের কিছু অংশ জুড়ে এর অবস্থান।

এটা খুবই সাধারণ। এতে রক্তজালিকাও নেই। অনেকেই চোখ প্রতিস্থাপন করে। আসলে চোখ প্রতিস্থাপন বলতে এই কর্নিয়া প্রতিস্থাপনকেই বলে।

অ্যাকুয়াস হিউমার

এটি এক প্রকার তরল পদার্থ যা অনেকটা জলীয় পদার্থের মতো। চোখের সামনের অংশে এটি থাকে। লেন্স এবং কর্নিয়ার মধ্যে এর অবস্থান। একে বলা হয় অ্যাকুয়াস হিউমার।

Advertisements

আর লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী অংশে জেলি জাতীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। আর একে বলা হয় ভিট্রিয়াস হিউমার

আইরিশ

এটি কর্নিয়ার ঠিক পিছনে একটি অস্বচ্ছ পর্দা। পর্দাটি স্থান ও লোকবিশেষে বিভিন্ন রং যেমনঃ নীল, বাদামি, কালো ইত্যাদি হয়ে থাকে । তবে আইরিশ সংকুচিত এবং প্রসারিত হয়ে থাকে আলোর তীব্রতার উপর। তখন পিউপিলের আকার পরিবর্তন হয়।

পিউপিল

এটি খোলা অংশে যেখানে দিয়ে সাধারণ আলো লেন্সে প্রবেশ করে থাকে। এটি আইরিশের মধ্যে খোলা অংশ।তাছাড়া এর আকার ও আইরিশ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আর এর মধ্য দিয়ে আলো চোখের ভিতরে প্রবেশ করে থাকে।

লেন্স

লেন্সের ভিতরে রক্ত সরবরাহ নেই৷ সিলীয় পেশী দ্বারা এর আকার নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। এটি রেটিনার উপর আলোক রশ্মিকে কেন্দ্রীভূত করে থাকে। তবে আইরিশের থাকা মাংশ পেশী দ্বারা এটি নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।

আমরা যে কাছের এবং দূরের জিনিস দেখতে পাই তা আমরা লেন্সের মাধ্যমেই দেখতে পাই। তাই বলা যায় লেন্সের মাধ্যেমে আমরা কাছের এবং দূরের জিনিস দেখে থাকি।

কাছের জিনিস দেখার সময় আমাদের লেন্স
প্রসারিত হয়। অন্যদিকে দূরের জিনিস দেখার সময় আমাদের লেন্স সংকুচিত হয়ে থাকে। এটিই লেন্সের কাজ।

ভিট্রিয়াস হিউমার

এটি এক প্রকার জেলির মতো পদার্থ। এটি লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী অংশে এক ধরনের জেলির মতো পদার্থ। আর একেই বলে ভিট্রিয়াস হিউমার । এটি চোখের বেশীরভাগ অংশ পূর্ণ করে রাখে।

কোরয়েড

কোরয়েডকে কৃষ্ণমন্ডল ও বলা হয়। এটি কালো রং এর একটি ঝিল্লি দ্বারা গঠিত। এই কালো রং এর জন্য চোখের ভিতরে প্রবিষ্ট আলোকের প্রতিফলন হয় না। মূলত মেলালিন থাকায় কালো দেখায়।

এটি রেটিনা থেকে আসা অতিরিক্ত আলোকে শোষনের পাশাপাশি রেটিনার মধ্যে রক্ত সরবরাহ করে থাকে। কোরয়েড ঘন রঞ্জিত পদার্থের এক প্রকার স্তর।

রেটিনা

এই গোলকের পিছনে অবস্থিত পর্দা৷ এটি ঈষদচ্ছ গোলাপি আলোকগ্রাহী পর্দা। রেটিনার উপর আলো পড়লে স্নায়ুতন্ত্রে এক ধরনের উত্তেজনা তৈরী হয় এবং মস্তিষ্কে এক প্রকার দর্শনের অনূভুতি জাগায়।

Advertisements

কারো যদি রেটিনা ছিড়ে যায় তাহলে সে অন্ধ ও
হয়ে যেতে পারে। তাই আমাদের উচিত প্রতি বছর রেটিনা পরীক্ষা করানো।

ফোবিয়া

রেটিনার মাঝে একটি খাঁজ এর মতো দেখা যায়। এটাই ফোবিয়া নামে পরিচিত। এখানে অনেক পরিমাণে কোনকোষ থাকলে ও রডকোষ থাকে না। আমাদের দর্শন অনূভুতির অনেক কিছুই এর উপর নির্ভর করে৷

অন্ধবিন্দু

দর্শন স্নায়ুর এক প্রকার প্রান্তবিন্দু। এখানে কোনো কোষ থাকে না।

দর্শন স্নায়ু

এটি না থাকলে আলো আমাদের মস্তিষ্কে আসতে পারতো না৷ এর মাধ্যমে চোখ থেকে আলোক
সংবেদ আমাদের মস্তিষ্কে আসে।

চোখের যত্ন নেওয়ার জন্য কারণীয়

চোখের সমস্যা নানান রকমের হয়ে থাকে। সে অনুযায়ী চোখের যত্নও নিতে হয়। বিভিন্ন উপায়ে চোখের যত্ন নেওয়া যায়। নিচে তার কয়েকটি উল্লেখ করা হলো।

আলোর ব্যবহার

দিনের বেলা সূর্যের আলো সরাসরি চোখে না পড়াই ভালো। সেক্ষেত্রে চশমা ব্যবহার করা দরকার। ল্যাপটপ, কম্পিউটার, টিভি দেখার সময় লাইট জালিয়ে কাজ করা উচিত। ঘরের টিউবলাইট যেদিকে সেই দিক হয়ে পড়াশোনা করা দরকার।

টিভি দেখার সময়

টিভি দেখার সময় লাইট জালিয়ে টিভি দেখা উচিত। টিভির উপরের ৪০ ওয়াটের লাইট রাখা দরকার। মিনিমাম ১০ ফুট দূর থেকে টিভি দেখা উচিত। প্রয়োজনে টিভির উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখুন।

তবে ছয় ফুটের কম দূরত্ব থেকে টিভি দেখা উচিত নয়। একটানা বেশিক্ষণ টিভি দেখা যাবে না। এতে মানসিক এবং শারীরিক ক্ষতি হবে আমাদের।

টিভি দেখার সময় দূরে বসুন
ছবিঃ একুশে টিভি (চোখের সমস্যা ও চোখের যত্ন)
টিভি দেখার সময় দূরে বসুন
ছবিঃ একুশে টিভি

তবে টিভির আকারের উপর নির্ভর করে দূরত্ব। তাছাড়া ঝাপসা, ঘোলা, ঝিরঝির অবস্থায় টিভি দেখা উচিত
নয়। কালার টেলিভিশনে রং, উজ্জলতা ঠিক রেখে টিভি দেখা উচিত। তাছাড়া একটানা টিভি
দেখার মাঝে মাঝে বিরতী দেয়া উচিত।

রোগের সময় চোখের যত্ন

বাচ্চাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। সময় মতো রোগ না সারলে তখন চোখ পরীক্ষা করা দরকার হয়। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদেরও চোখ পরীক্ষা করা দরকার হয়।

বিশেষ করে যাদের দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের চক্ষু ডাক্তারের পাশাপাশি রেটিনা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখানো উচিত। আর
ডায়াবেটিস কন্ট্রোল রাখার জন্য আমাদের নিয়মিত পরিশ্রম করা উচিত।

শহরে লিফট ব্যবহার না করে সিড়ি ব্যবহার করা উচিত। চকলেট, মিষ্টি জাতীয় জিনিস না খাওয়া
উচিত। এর পাশাপাশি অনেক সময় যাদের উচ্চ রক্তচাপ হয় তাদের ও চোখে সমস্যা হয়।

সেক্ষেত্রে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। কম্পিউটার, ল্যাপটপের কাজ শেষে ঠাণ্ডা পানি চোখে দেয়া দরকার।

Advertisements

চশমা ব্যবহারের সময়

আসলে চশমা ব্যবহারের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। বাজারে এখন পাওয়ার বিহীন চশমা পাওয়া যায়। তবে যাদের চোখে সমস্যা রয়েছে তাদের ডাক্তারের পরামর্শে চশমা নেয়া দরকার।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে অনেকের চোখে সমস্যা দেখা দেয়। অনেকেই লিখা পড়তে পারে না, আঁকা বাঁকা দেখে, ঝাপসা দেখে। বর্তমানে শিশুদেরও চোখে সমস্যা দেখা যায়।

শিশুদের জন্মের একমাসের ভিতরে রেটিনা পরীক্ষা করানো উচিত। তবে পানি দ্বারা চোখ পরিষ্কার করা দরকার এবং প্রতি ৬ মাস পর পর চোখ পরীক্ষা করা দরকার।

বাম বা ডান চোখ লাফালে কি হয়?

অনেকেই ডাক্তারকে বলে, স্যার ডান চোখ লাফালে কি হয়? আবার কেউ বলে বাম চোখ লাফালে কি হয়? ইত্যাদি।

দুই-একবার হঠাত্‍ চোখের পাতা লাফালে চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু সেটা যদি মাত্রাতিরিক্ত হয় এবং তাহলে অবশ্যই চিকিত্‍সকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

অনেক সময় ধরে কম্পিউটার – ল্যাপটপের
পর্দায় তাকিয়ে থাকলে চোখের ভিতর আস্তে আস্তে শুকিয়ে যায়। চোখ শুকিয়ে যাওয়াই হচ্ছে চোখের শুষ্কতা। আর চোখের শুষ্কতাই চোখ লাফানোর জন্য দায়ী।

তবে এটি নানা কারণে হয়ে থাকে। এগুলার মধ্যে অন্যতম হলো পুষ্টিগত সমস্যা এবং এলার্জী সমস্যা
এবং জন্মগত/বংশগত সমস্যা।

যখন কারো ভিটামিন কিংবা ম্যাগনেসিয়ামের অভাব থাকে তখন পুষ্টিগত সমস্যা দেখা দেয়। অন্যদিকে যাদের এলার্জি হয়, অতিরিক্ত চোখ চুলকায়, চোখ ডলে তাদের এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। 

আরো পড়ুন……

অনেকের বাবা মা এর এ সমস্যা থাকলে তখন সন্তানের ও এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়। তাছাড়া হিস্টোমিনের কারনে ও এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে সমস্যা বেশী হলে আমাদের উচিত ডাক্তারের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া।

ডান বা চোখ লাফানোর কিছু কারণ রয়েছে। সেগুলো হলোঃ

  • মানসিক চাপ
  • ক্লান্তি
  • দৃষ্টি সমস্যা
  • অতিরিক্ত ক্যাফেইন খাওয়া
  • অতিরিক্ত অ্যালকোহল খাওয়া
  • চোখের শুষ্কতা
  • পুষ্টির ভারসাম্যহীনতা
  • এলার্জি

এলার্জি সমস্যা থেকে বাঁচার কিছু কৌশল জেনে নিন।

Advertisements

চোখের উজ্জ্বলতা বাড়ানো

দিনের শুরুতের আমরা চাইলে ফল মূল খেতে পারি। আমরা যদি এন্টিঅক্সিডেট এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ ফল খাই তাহলে আমাদের চোখের জন্য তা অনেক উপকারে আসবে।

এর ফল শুধু চোখের উজ্জ্বলতা নয় বরং এর পাশাপাশি শরীর এবং আমাদের ত্বকের জন্যও উপকারী। তাছাড়া নিয়মিত সবুজ শাক সবজি ও সালাদ খাওয়া দরকার।

চোখের ছানি পড়ার কারণ

চোখের সমস্যা গুলোর মধ্যে চোখের ছানি পড়া অন্যতম। ছানি কি কারণে হয়? সেটা জানার আগে আমাদের জানা দরকার ছানি কি? ছানি হচ্ছে এমন এক সমস্যা যার কারনে চক্ষু লেন্স ঘোলা হয়ে যায় এবং ঝাপসা দেখা যায়।

চোখে ছানি পড়া
ছবিঃ একুশে টিভি
চোখে ছানি পড়া
ছবিঃ একুশে টিভি

সাধারণত বার্ধক্যজনিত সমস্যায়, চোখের অন্য সমস্যা, চোখের বিশেষ সমস্যায়, আঘাত/ ব্যাথাজনিত সমস্যার জন্য চোখের ছানি হয়। চলুন এ ব্যাপারে বিস্তারিত
জেনে নেই।

বার্ধক্যজনিত কারণে

সাধারণত ৫০-৬০ বছর বয়সে চোখে ছানি পড়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। আমাদের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা অল্প পরিমাণে থাকলে চশমা পরে এই সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। ছানির অপারেশন ও করা যাবে। তখন ছানির রং মুক্তার মতো সাদা, দুধের মতো সাদা রঙ এর হয়।

চোখ ব্যতীত শরীরের অন্য অসুখের কারণে

চোখ ব্যতীত অন্য অসুখ হচ্ছে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি। অনিয়ন্ত্রিতভাবে ডায়াবেটিস বাড়লে এবং উচ্চ রক্তচাপ বাড়লে চোখে সমস্যা দেখা দিতে পারি।

চোখের ছানি পড়া নিয়ে বিস্তারিত ভিডিও
সৌজন্যেঃ এনটিভি

চোখের জটিল অসুখ

চোখের জটিল অসুখ গুলো হচ্ছে চোখের রেটিনা সমস্যা। কারণ, চোখে রেটিনা সমস্যা থেকে মানুষ অন্ধ ও হয়ে যেতে পারে।

আঘাতজনিত কারনে

ছানি সাধারণত সে চোখে হয় যে চোখে আঘাত লাগে। চোখের ভিতরে পাথর / ছোট ইট জাতীয়
কিছু ঢুকে গেলে ও এ সমস্যা দেখা দেয়।

চোখের ছানি অপারেশন

চোখের ছানি পড়ার সর্বশেষ সমাধান হচ্ছে অপারেশন করা। চোখে ছানি হলে চোখের লেন্স পরিবর্তন করতে হয়। একে বলে চোখের ছানি অপারেশন

ছানি পড়লে দেরি করা যাবেনা। দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অপারেশন করিয়ে নিবেন। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক চিকিৎসক চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দেন। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে অপারেশনের দিরকার হয়। তথ্যসূত্রঃ এনটিভি (ভিডিও)

চোখ ওঠা

চোখের অনেক ভাইরাস জনিত রোগ রয়েছে তার মধ্যে চোখ ওঠা একটি ভাইরাস জনিত রোগ। এটি ব্যাকটেরিয়া জনিতও হতে পারে। এ সময় চোখ লাল বা হালকা ফুলে যায়। এটি কোনো মারাত্মক সমস্যা নয়

চোখ ওঠা | চোখের সমস্যা ও চোখের যত্ন
চোখ ওঠা ও চোখের যত্ন
ছবিঃ প্রথম আলো

চোখ ওঠার লক্ষণ সমূহ

চোখ ওঠার কিছু লক্ষণ দেখা যায়। চোখে সামান্য ব্যাথা হতে পারে, চোখে জালা পোড়া হতে পারে, চোখ লাল হতে পারে, চোখের ভিতরটা লাফায় এমন মনে হবে। তাছাড়া সে সময় রোদে তাকালেও সমস্যা হয়।
সেক্ষেত্রে সান গ্লাস ব্যবহার করা উত্তম।

চোখ ওঠলে আমাদের সতর্কতা

যেকোনো কিছুতেই নিরাপদ এবং সতর্ক থাকা উচিত। আর যদি হয় চোখ, তা নিয়ে তো আমাদের সর্বদাই সর্তক থাকা দরকার।

সর্তকতা হিসেবে ধূলাবালি কম এমন জায়গায় যাওয়া। পুকুর, নদী, সমুদ্রে গোসল না করা। চোখকে বিশ্রাম দেয়া। ল্যাপটপ, কম্পিউটার, টিভি স্ক্রিন থেকে নিজের চোখকে দূরে রাখা এবং কালো চশমা পরিধান করা দরকার। প্রয়োজনে চক্ষু ডাক্তারকে দেখানো উচিত।

চোখ কেন লাল হয়?

অনেকেই ডাক্তারের কাছে এমন ধরনের প্রশ্ন করে যে, চোখ লাল হয়ে যায়। চোখ লাল হওয়ার নানা কারণ রয়েছে। অনেকেই মনে করে যে, যাদের রাগ বেশী তাদের চোখ লাল হয়ে যায়। তবে এটা ভূল ধারনা।

সাধারণ ঘটনা আর অসাধারণ ঘটনার মাঝে পার্থক্য রয়েছে। যেমন : গ্রামের পুকুরে অনেকক্ষণ গোসল করলে চোখ লাল হয়ে যায়। এর কারণ হচ্ছে সেই পুকুর অপরিষ্কার, সেই পুকুরে হাঁস, গরু, ছাগল গোসল করে কিংবা অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার করা হয়। তবে এ ঘটনাগুলো সাধারণ ঘটনা।

অস্বাভাবিক কিছু ঘটনা হচ্ছে যাদের চোখে ঘা জাতীয় কিছু হয়, চোখে অস্ত্রপ্রয়োগ করা হয়, চোখে পাথর, ইটের গুড়া যায়, ওয়েল্ডিং এর কাজ কিংবা যাদের চোখের দৃষ্টি শক্তি কম তারা যদি অনেকক্ষণ ধরে বই পড়ে তখন চোখ লাল হয়ে যায়।

তবে অনেক সময় যাদের চোখে টিউমার হয়ে থাকে তাদের ও চোখ লাল হয়ে যায়। আবার অনেকেরই চোখে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস হয়। সে সময় চোখ লাল হয়ে যায়।

তাছাড়া কনজাংটিভায় যখন সংক্রমণ বা প্রদাহ দেখা দিলে চোখ লাল হয়ে যায়। একে আমরা চোখ ওঠা বলি।

চোখের নিচে কালো দাগ

অনেক মানুষের কমন একটি সমস্যা দেখা যায়। তা হলো চোখের নিচে কালো দাগ পড়া। এটি খুবই বিরক্তিকর। কারণ, এটি চেহারার সৌন্দর্যতা নষ্ট করে দেয়।

এক-দুই দিনে এই কালো দাগ দূর যায় না। এর জন্য নিয়মিত যত্ন নেয়া দরকার। নিয়মিত সঠিকভাবে যত্ন না নিলে এই সমস্যার সমাধান পাওয়া অসম্ভব। চলুন জেনে নেই এর সমাধান।

কেন চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে?

বিভিন্ন কারণে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে। তার সাধারণ কিছু কারণ নিচে দেওয়া হলো।

  • মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা
  • পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া
  • চোখ শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

চোখের নিচের কালো দাগ দূর করার উপায়

১ চা চামুচ টমেটোর রসের সাথে আপনি চা চামুচ লেবুর রস মিশিয়ে ১০ মিনিট ধরে চোখের নিচে দিতে পারেন। এরপর পানি দ্বারা ধুয়ে ফেলতে পারেন।

Advertisements

তাছাড়া শসার রস এবং আলুর রস মিশিয়ে চোখে দিতে পারেন। এরপর ১০ মিনিট পর পানি
দ্বারা ধুয়ে ফেলতে পারেন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ বার ভালো করে মুখে পানি দিতে পারেন।

চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ানোর উপায়

চোখ আমাদের সকলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তাই চোখের দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখতে আমাদের কিছু বিশেষ খাবার খাওয়া দরকার। যেমন : ডিম, সবুজ শাক- সবজি, মাছ, গাছর, লেবু ইত্যাদি ইত্যাদি। চলুন জেনে নেই এই খাবারের উপকারিতা কি?

ডিম

ডিম যেকোনো মানুষ এর জন্য উপকারী। ডিমে থাকা উপকারী পদার্থ আমাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি জিঙ্ক এর পরিমানও বৃদ্ধি করে। যা আমাদের চোখের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

শাক – সবজি

যেকোনো সবুজ জাতীয় খাবার চোখের জন্য উপকারী। এমনকি সবুজ জিনিসও। যেমন : ঘাস, ক্ষেত এর দিকে তাকানো ও চোখের জন্য ভালো।

শাকের মধ্যে পালংশাক, বেশ উপকারী। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই শাক খেতে চায় না। কিন্তু শাক না খেলে চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়বে কিভাবে? 

তাই আমাদের নিয়মিত শাক – সবজি খাওয়া দরকার। যত বেশী সবুজ শাক- সবজি খাওয়া যাবে তত আমাদের জন্য উপকারী। শাক সবজিতে থাকা
বিভিন্ন উপকারী উপাদান চোখের একাধিক সমস্যাকে দূর করতে সাহায্য করে।

তাই চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করার উপায় গুলী মেনে চলুন। আর এউ খাবারগুলো জিয়মিত খান। চোখ বাঁচান।

লেবু ও গাজর জাতীয় খাবার

ভিটাসিন সি এর অন্যতম খাবার লেবু জাতীয় খাবার। তাছাড়া কমলা ও আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে।

কমলা, লেবু জাতীয় খাবারে থাকা ভিটামিন সি আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি নানাভাবে সহায়তা করে। অন্যদিকে গাজর ও চোখের জন্য উপকারী।

বাদাম

যদি আপনি চশমাকে ছাড়তে চান কিংবা চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে চান তাহলে আজকে থেকেই বাদাম খান। এটি চোখের জন্য বেশ উপকারি।

মাছ

মাছেদের মধ্যে ছোট মাছ যেমন : মলা, ঢেলা মাছ খান। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ এবং ইলিশ, রুই, কাতলা মাছ খান। কারণ, এসব মাছে প্রচুর পরিমানে ফ্যাটি এসিড থাকে; যা আমাদের চোখের জন্য উপকারী।

চোখ আপনার মূল্যবান সম্পদ। একে অবহেলা করা উচিত নয়। চোখের সমস্যা দেখা দেওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। নিয়মিত চোখের যত্ন নিতে হবে।

চোখের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে এই আর্টিকেলটি আপনাকে দারুণভাবে সহায়তা করবে। পরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এই পোস্ট সম্পর্কে কোনো অভিযোগ, মতামত বা পরামর্শ থাকলে নিচে কমেন্ট করুন। আমরা সকল কমেন্টের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করি। সকল আপডেট সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন। আর টুইটারে ফলো করুন।

Spread the love
Advertisements

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *