কিভাবে বুঝবেন আপনার সন্তান মাদকাসক্ত কিনা?

বর্তমান যুবকরা হতাশা, একাকীত্বতায়, মানসিক চাপে কিংবা অসৎ সঙ্গের কারণে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। দুঃক্ষের বিষয় হলো অনেক বাবা-মা বুঝতে পারেন না যে তাদের মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। তাই সন্তানকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে তারা ব্যার্থ হন। যতক্ষণে জানতে পারেন ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। তাহলে কিভাবে বুঝবেন আপনার সন্তান মাদকাসক্ত কিনা?

সন্তান মাদকাসক্ত কিনা
সন্তান মাদকাসক্ত কিনা

সহজ কিছু উপায় আছে। একজন ব্যাক্তি মাদকাসক্ত হলে তার মধ্যে কিছু লক্ষণ বা পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। সেগুলোর ভিত্তিতে খুব সহজেই মাদকাসক্ত ব্যাক্তিকে চেনা সম্ভব। চলুন, সেরকম কিছু কমন লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

শারীরিক লক্ষণ

মাদক গ্রহণের ফলে একজন ব্যক্তির মাঝে বেশ শারীরিক ও আচরণগত পরিবর্তন হয়। সেই পরিবর্তনগুলো একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবেন আপনার পরিবারের কেউ মাদক নিচ্ছে কি না।

  • (১) খাওয়ার প্রবণতা এবং ঘুমের সময়সীমার পরিবর্তন চলে আসলে। ওজন হঠাৎ করে বেড়ে গেলে বা কমে গেলে।
  • (২) চোখ লাল হয়ে থাকলে এবং চোখের মণি স্বাভাবিকের চেয়ে বড় বা ছোট দেখালে।
  • (৩) নাক দিয়ে প্রায়ই রক্ত পড়লে। সাধারণত কোকেইন বা নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করতে হয় এমন মাদকের বেলায় এই লক্ষণ দেখা যায়।
  • (৪) চেহারা এবং পোশাকের পরিধান ও যত্নে অবনতি দেখা দিলে।
  • (৫) শরীরে এমন কোন ক্ষত বা কাটা ছেড়া দেখা গেলে যা সম্পর্কে তারা জানে না বা কীভাবে আঘাত পেলো তা আপনাকে বলতে না চাইলে।
  • (৬) তাদের মুখে বা শরীরে বা পোষাকে অদ্ভুত বা অপরিচিত কোন গন্ধ পেলে।
  • (৭) মাদকাসক্ত ব্যক্তির চেহারায় কালো ছোপ ছোপ দাগ তৈরি হয় ।

আচরণগত পরিবর্তন

  • (১)ক্লাস বা অফিসে ঘনঘন যেতে না চাওয়া বা প্রতিষ্ঠানে কোন ঝামেলায় জড়িয়ে পড়া।
  • (২) কাজে অমনযোগী হলে, ব্যক্তিগত শখ বা খেলাধুলায় আগ্রহ হারিয়ে ফেললে ।
  • (৩) তার সহকর্মী, শিক্ষক বা বন্ধুদের কাছ থেকে ঘনঘন নালিশ আসতে থাকলে ।
  • (৪) বাসায় রাখা টাকার হিসাব না মিললে। কারণ নেশার দ্রব্য কিনতে টাকা লাগে। তাই সাধারণত নেশার দ্রব্যের মুল্য পরিশোধের জন্য আপনার সন্তান টাকা , মুল্যবান সামগ্রী, অলংকার চুরি করতে পারে ।
  • (৫) পড়াশোনার নাম করে ঘনঘন টাকা চাওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেলে ।
  • (৬) পরিবাররে সদ্যসদের সাথে ব্যবহারের পরিবর্তন আসলে। সাধারণত মাদকাসক্তির সময়গুলোতে তারা খিটখিটে মেজাজের হয়ে থাকে ।
  • (৭) বেশিরভাগ সময়ই একা থাকলে বা প্রাইভেসি সচেতন হয়ে পড়লে। বেশির ভাগ সময়ই রুমের দরজা বন্ধ রাখলে ।
  • (৮) অকারণে বিরক্তিবোধ করলে ।
  • (৯) অতিরিক্ত মিষ্টি খেতে আরম্ভ করলে ।
  • (১০) পুরনো বন্ধুদের পরিবর্তে নতুন নতুন বন্ধু চোখে পড়লে ।
  • (১১) ঘরে বা বিছানায় পাউডার জাতীয় জিনিস পাওয়া ।
  • (১২) প্রায়ই কারো না কারো সাথে মারামারি বা ঝগড়া ইত্যাদিতে জড়িয়ে পড়া।
  • (১৩) সব সময় রুমে এবং শরীরে মাত্রা অতিরিক্ত পারফিউম বা এয়ারফ্রেশনার ব্যবহার করা ।
  • (১৪) চোখের লাল ভাব কাটানোর জন্য ড্রপ ব্যবহার শুরু করলে ।
  • (১৫) অকারণে রেগে গেলে ।

সন্তান মাদকাসক্ত হলে করণীয় কি?

সন্তান মাদকাসক্ত জানতে পেরে অনেক অবিভাবকই সন্তানকে বকা ঝকা করেন। কেউ কেউ মারধরও করেন। এটি মোটেই সঠিক উপায় নয়। কারণ, মাদকাসক্ত ব্যাক্তির হিতাহিত জ্ঞান কম থাকে বা থাকেনা বললেই চলে। তাই সে উত্তেজনাবশত খারাপ কিছু করে ফেলতে পারে।

এক্ষেত্রে তাকে ভালোভাবে বুঝাতে হবে। একইসাথে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের অর্থাৎ মানসিক ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে চিকিৎসা দিতে হবে।

কিছু কিছু মাদকের থেকে বিরত রাখার জন্য রিহ্যাব সেন্টারে রাখতে হতে পারে। এজন্য রিহ্যাব সেন্টারে ২-৩ মাস থাকতে হতে পারে। এই সময়ে রোগী মাদক থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকতে থাকতে তার নেশা কমে আসবে। একইসাথে মানসিক ডাক্তারের পরামর্শ ও চিকিৎসায় সে আসক্তি কাটিয়ে উঠতে পারবে।

শেষ কথা

সন্তানের দিকে নজর রাখুন। সন্তানকে সময় দিন। তার ভাল মন্দের খোঁজখবর রাখুন। কার সাথে মিশে সেই ব্যাপারে নজর রাখুন। সন্তানকে ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top