গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় ও পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

“গুগল এডসেন্স” নামটা হয়তো শুনেছেন। ফ্রিল্যান্সার, ব্লগার ও ইউটিউবাররা এই নামের সাথে সর্বাধিক পরিচিত। অনেকেই এডসেন্সকে সোনার হরিণ মনে করেন। এডসেন্স কি? গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় ও সম্পূর্ণ গাইডলাইন নিয়ে আজকে লিখতে বসলাম।

এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়লে গুগল এডসেন্স নিয়ে আপনার মনের সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। গুগল এডসেন্স এর একাউন্ট কিভাবে খুলতে হয় এবং চিঠি কিভাবে হাতে পাবেন এমন গুরুত্বপূর্ণ ও কমন সব সমস্যার সমাধান আজকে পেয়ে যাবেন।

আশা করি, এই আর্টিকেল পড়ার পর গুগল এডসেন্স নিয়ে আর অন্য কোনো আর্টিকেলের খোঁজ করা লাগবেনা। গুগল এডসেন্সের বিকল্পও খুঁজতে হবেনা। আর কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করি।

এক নজরে সম্পূর্ণ পোস্ট

গুগল এডসেন্স কি?

গুগল এডসেন্স হচ্ছে টেক জায়ান্ট গুগলের একটি চাইল্ড কোম্পানি। এটি মুলত একটি বিজ্ঞাপন সংস্থা। বিজ্ঞাপন দাতারা এডসেন্সের মাধ্যমে তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার করে। আর বিভিন্ন পাবলিশাররা সেটি প্রচার করে।

ধরুণ, গ্রামীণফোন কোম্পানি অনলাইনে তাদের কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করবে। এক্ষেত্রে তারা গুগল এডসেন্সে তাদের বিজ্ঞাপন প্লেস করবে।

একই সাথে যারা এডসেন্সের অনুমোদিত পাবলিশার অর্থাৎ বিভিন্ন ইউটিউবার ও ব্লগার তারা তাদের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে সেটি প্রচার করবে।

এক্ষেত্রে গ্রামীণফোন এডসেন্স কোম্পানিকে টাকা দিবে। আর এডসেন্স কোম্পানি তাদের নির্দিষ্ট কমিশন রেখে বাকি টাকা পাবলিশার অর্থাৎ ওয়েবসাইটের মালিক ও ইউটিউবারদের দিবেন।

অর্থাৎ এডসেন্স মূলত একটি বিজ্ঞাপন দাতা প্রতিষ্ঠান। এখানে কিছু লোক পাবলিশার (ইউটিউবার ও ওয়েবসাইট) আর কিছু লোক বিজ্ঞাপনদাতা হিসেবে কাজ করে।

গুগল এডসেন্স এর কাজ কি?

গুগল এডসেন্স এর কাজ কি? এ ব্যাপারে ইতিমধ্যেই আপনাদের নিশ্চয়ই ধারণা হয়ে গেছে। গুগল এডসেন্স হচ্ছে একটি মিডিয়া। যারা বিজ্ঞাপনদাতাদের থেকে বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করে আর তাদের অনুমোদিত পাবলিশারদের মাধ্যমে সেই বিজ্ঞাপনগুলো প্রচার করে।

গুগল এডসেন্সের কাজ কি? কিভাবে গুগল এডসেন্স পাওয়া যায়?
গুগল এডসেন্সের কাজ কি? গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় কি?

এক্ষেত্রে গুগল বিজ্ঞাপন দাতাদের কাজ থেকে টাকা নেয়৷ নির্দিষ্ট হারে নিজেরা কমিশন নেয় আর বাকি টাকা পাবলিশারদের দেওয়া হয়। অর্থাৎ যারা নিজেদের ওয়েবসাইট, অ্যাপ, ইউটিউব চ্যানেল ইত্যাদিতে গুগলের বিজ্ঞাপনগুলো দেখায় তারাই পাবলিশার। আর বিজ্ঞাপন প্রচারের বিনিময়ে তারা গুগল এডসেন্স থেকে টাকা পায়।

গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয়

ইতিমধ্যে আপনারা জেনেছেন গুগল পাবলিশারদের কে টাকা দেয়। অর্থাৎ গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয় করা যায়। পাবলিশাররা গুগলের বিজ্ঞাপন প্রচার করে এবং গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়। এজন্য গুগল তাদেরকে কাজ অনুযায়ী পেমেন্ট করে।

বিভিন্ন মাধ্যমে গুগল এডসেন্স দিয়ে ইনকাম করা যায়। নিচে কিছু কমন মাধ্যম নিয়ে আলোচনা করা হলো।

গুগল এডসেন্স ইউটিউব

ইউটিউব থেকে ইনকাম এর কথা আপনারা অনেকেই শুনেছেন। কয়েকটি প্রক্রিয়ায় ইউটিউব থেকে ইনকাম করা যায়। তার মধ্যে একটি প্রক্রিয়া হচ্ছে গুগল এডসেন্স। বাংলাদেশের ইউটিউবাররা ইউটিউব থেকে এই পদ্ধতিতে সবচেয়ে বেশি ইনকাম করে থাকেন।

এখন কথা হচ্ছে কিভাবে ইউটিউব থেকে এডসেন্সের মাধ্যমে ইনকাম করা যায়? ইউটিউব এর একটা লক্ষ্যমাত্রা থাকে। ওই লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ করার পর এডসেন্স এর জন্য আবেদন করা যায়। এডসেন্স কর্তৃপক্ষ আপনার আবেদন গ্রহণ করলে আপনার ইউটিউব চ্যানেলে গুগল এডসেন্সের বিজ্ঞাপন শো করবে এবং এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যে ইনকামটি হবে সেই ইনকাম থেকে গুগল এডসেন্স তাদের কমিশন কেটে রাখবে এবং আপনার ইনকাম আপনাকে পাঠিয়ে দিবে। এভাবে ইউটিউব থেকে এডসেন্স এর মাধ্যমে ইনকাম করা যায়।

গুগল এডসেন্স ওয়েবসাইট

সারা বিশ্বে কোটি কোটি ওয়েবসাইট আছে। সবাই কোন না কোন উপায়ে ইনকাম করছেন। তবে এশিয়া মহাদেশে বেশিরভাগ ওয়েবসাইটের ইনকাম আসে গুগল এডসেন্স থেকে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ওয়েবসাইটে ভাল ভাল কনটেন্ট দিতে হয়।

যখন ওয়েবসাইটের মোটামুটি ভিজিটর আসা শুরু হয় তখন এডসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের পর এডসেন্স কর্তৃপক্ষ আপনার ওয়েবসাইটটি ভালোভাবে রিভিউ করবে। তাদের চাহিদাগুলো আপনার ওয়েবসাইট পূরণ করতে পারলে তারা ওয়েবসাইটটিকে এপ্রুভ দিবেন।

অ্যাপ্রুভ হওয়ার পর থেকে ওয়েবসাইটটিতে গুগলের বিজ্ঞাপন শো হবে। এই বিজ্ঞাপনে কেউ ক্লিক করলে বিভিন্ন অ্যালগরিদম অনুযায়ী আপনার এডসেন্স একাউন্টে টাকা জমা হবে।

এই টাকা 100$ হলে অথবা তার বেশি হলে এক মাস পর আপনার একাউন্টে পাঠানো হবে। এক্ষেত্রে আপনি ব্যাংক, কার্ড ইত্যাদি মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করতে পারেন। অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন শো করে আপনি গুগল থেকে টাকা ইনকাম করতে পারেন।

অ্যাপের মাধ্যমে ইনকাম

বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ আমরা ব্যবহার করি। এগুলো ব্যবহার করার সময় আমরা বিভিন্ন অ্যাড দেখতে পাই। এই অ্যাডগুলো হচ্ছে গুগল এডসেন্সের এড। অর্থাৎ অ্যাপটির মালিক গুগল থেকে বিজ্ঞাপন নিয়ে তাঁর অ্যাপে প্রচার করছে। সেই অ্যাপটির মাধ্যমে কেউ ওই বিজ্ঞাপনগুলোতে ক্লিক করলে অ্যাপের মালিকের এডসেন্স একাউন্টে টাকা জমা হবে। ওই টাকাটাও তিনি মাস শেষে গুগল থেকে পেমেন্ট পাবেন। এভাবে অ্যাপ থেকে ইনকাম করা যায়।

গুগল এডসেন্স এর নিয়ম

পৃথিবীতে হাজার হাজার ওয়েবসাইট, অ্যাপ এবং ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। অনেকেই গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে ইনকাম করছেন। আবার অনেকেই করতে পারছেন না। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এডসেন্স থেকে ইনকাম করতে চান না। আর কেউবা চান, কিন্তু অ্যাডসেন্সে Approved পাননা। এডসেন্স এর জন্য বারবার আবেদন করেও এডসেন্স অ্যাপ্রুভ হয়না।

এর বিভিন্ন কারণ রয়েছে। মূলত অ্যাডসেন্সের কিছু গাইডলাইন রয়েছে। আপনি যদি ওই গাইড লাইন গুলো সঠিকভাবে পূরণ করতে না পারেন তাহলে এডসেন্স আপনাকে তাদের বিজ্ঞাপন প্রোগ্রামে যুক্ত করবে না। তাই অবশ্যই গুগল অ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্য কিছু নিয়ম কানুন আপনাকে মেনে চলতে হবে।

গুগল এডসেন্স এর সবচেয়ে কমন কিছু নিয়ম কানুন সম্পর্কে আপনাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছি। আপনারা অবশ্যই এই নিয়ম কানুন গুলো মেনে চলবেন। তা না হলে আপনার এডসেন্স খুব সহজে এপ্রুভ হবে না এবং এডসেন্স অ্যাপ্রুভ হলেও সেটি ডিজেবল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

১. কপি করা নিষেধ

আপনার পোষ্ট, ভিডিও বা অন্য কোন কনটেন্ট কোনমতেই কপি করা যাবে না। অর্থাৎ আপনি যাই লিখবেন বা যে ধরনের ভিডিও তৈরী করেন না কেন অবশ্যই সেটি আপনার নিজের তৈরি হতে হবে। কোনমতেই কপি করা যাবে না।

বেশিরভাগ ব্লগার ও ওয়েবসাইটের মালিকগন কপি করার কারণে এডসেন্সের অ্যাপ্রুভ পান না। এই বিষয়ে খুব সতর্ক থাকতে হবে। কোনমতেই অন্যের কোন কোন কন্টেন্ট কপি করা যাবে না। যা লিখবেন বা যে কনটেন্টটি তৈরি করবেন না কেন তা অবশ্যই নিজের হতে হবে। তাহলে খুব সহজেই আপনি গুগল এডসেন্স পাবেন।

২. High value content

আপনাকে অবশ্যই হাই ভ্যালু কনটেন্ট লিখতে হবে বা তৈরি করতে হবে। ইউটিউব এর জন্য হলে অবশ্যই high value ভিডিও হতে হবে এবং ওয়েবসাইটের জন্য হলে অবশ্যই আপনার লেখা বা কনটেন্ট সেটা হোক ছবি বা কোন ভিডিও অবশ্যই সেটা ভ্যালুয়েবল কনটেন্ট হতে হবে। মনে রাখবেন, Low value content এ গুগল এডসেন্স এড করে না।

এখন আগে আমাদেরকে বুঝতে হবে হাই-ভ্যালু কনটেন্ট কি? হাই ভ্যালু কনটেন্ট হচ্ছে এমন কন্টেন্ট যার মূল্য আছে। অর্থাৎ যেই কনটেন্ট মানুষ গুগল সার্চ করে খুঁজে। যেই কনটেন্টের মধ্যে বিজ্ঞাপনদাতারা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য উৎসুক থাকে। অর্থাৎ এমন কন্টেন্ট আপনাকে তৈরি করতে হবে যে এই কনটেন্টে বিজ্ঞাপনদাতারা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য রাজি থাকে।

এর জন্য আপনাকে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে। কিওয়ার্ড রিসার্চ করে সেইসব কিওয়ার্ডগুলো বাছাই করবেন যেগুলোর সার্চ ভলিয়ম মোটামুটি বেশি এবং যেটাতে সিপিসি কমপক্ষে ১ টাকা। অর্থাৎ এই কিওয়ার্ডে অন্তত 1 টাকা হলেও সিপিসি আছে এরকম করে বাছাই করবেন। এরকম কিওয়ার্ডে আপনারা কনটেন্ট তৈরি করবেন।

ওয়েবসাইটের আর্টিকেল ক্ষেত্রে অবশ্যই আর্টিকেল 1000 শব্দের বেশি লেখার চেষ্টা করবেন। এখানে মূলত 1000 শব্দ বলতে আমি বোঝাচ্ছি আপনারা আর্টিকেলে কীওয়ার্ড রিলেটেড সকল তথ্য সংযুক্ত করবেন।

অর্থাৎ আপনি যে বিষয়ে লিখবেন সেই বিষয়ে যাতে একজন ভিজিটর পড়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পান। 100 থেকে 200 ওয়ার্ড এর আর্টিকেল লিখলে তাতে খুব কম পরিমাণ তথ্য থাকে, যা মূলত লো ভেলু কন্টাক্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। আর এমন কনটেন্ট গুগল এডসেন্স এড দিতে চায় না।

কিন্ত যখন আপনার কনটেন্ট গুলো বা আর্টিকেলগুলো 1000 শব্দের বেশি হবে সে ক্ষেত্রে আপনার আর্টিকেলে অনেক পরিমাণ তথ্য থাকবে, যা আপনার আর্টিকেলটকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং বিজ্ঞাপনদাতারাও আপনার আর্টিকেলে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য এক পায়ে খাড়া থাকবে।

অর্থাৎ গুগল এমন কনটেন্ট চায়, যে কন্টেন্ট থেকে ভিজিটর তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাবে এবং সেই কনটেন্টে গুগল বিজ্ঞাপন প্রচার করবে। একইসাথে সেখান থেকে গুগল ইনকাম করবে এবং আপনাকেও ইনকাম দিবে।

এমন কোন কনটেন্টে গুগল বিজ্ঞাপন দিতে চায় না যে কন্টেন্টে ভিজিটর বিরক্ত হয় এবং যেখানে তথ্যের পরিমাণ অনেক কম থাকে। তাই কনটেন্ট তৈরি করার সময় অবশ্যই এই বিষয়টি মাথায় রাখবেন। আপনার কনটেন্ট হতে হবে তথ্যপূর্ণ এবং এমন কিওয়ার্ড বাছাই করবেন যে কীওয়ার্ডে সিপিসি সর্বনিম্ন এক টাকা।

৩. নির্দিষ্ট কিছু পেজ থাকা

অ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্য আপনার ওয়েবসাইটে কিছু নির্দিষ্ট পেজ অবশ্যই থাকতে হবে। সেগুলো হলো, About us, Privacy policy, Contact us। এই তিনটি পেইজ অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটে থাকতে হবে।

About us পেজে আপনার ওয়েবসাইট সম্পর্কে বিস্তারিত লিখতে হবে। যাতে ওই লেখাটি পড়ে যে কেউ আপনার ওয়েবসাইট কি, কেন এবং কারা পরিচালনা করছেন সেই বিষয়ে ধারণা পান।

Contact us পেজে আপনার সাথে যোগাযোগ করার কোন মাধ্যম দিয়ে দিতে হবে। সেটি হতে পারে কন্টাক্ট ফর্ম, ইমেইল এড্রেস, ফোন নাম্বার, ফেসবুক একাউন্ট, ফেসবুক পেইজ টুইটার একাউন্ট এর লিংক ইত্যাদি। অর্থাৎ এই পেজে আপনার সাথে যোগাযোগ করার উপায় গুলো দিয়ে দিবেন।

Privacy policy পেজে আপনাকে কিছু বিষয়ে ইউজারকে ক্লিয়ার করতে হবে। অর্থাৎ আপনি ইউজারের ডাটা কিভাবে কালেক্ট করছেন, কেন কালেক্ট করছেন, সেই ডাটা গুলো কিভাবে ব্যবহার করবেন সে বিষয়ে লিখে দিতে হবে। ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে অটোমেটিকভাবে এই পেজটি তৈরি করা যায়।

৪. নেভিগেশন

সাইটের নেভিগেশন ঠিকঠাক থাকতে হবে। অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইটে এমন সব অপশন রাখতে হবে যাতে করে ভিজিটর খুব সহজেই ওয়েবসাইটে যেকোনো পেজ সহজেই খুঁজে পেতে পারেন এবং এক পেজ থেকে অন্য পেজে খুব সহজেই যেতে পারেন।

এজন্য আপনি মেনু তৈরী করতে পারেন এবং পোস্টে ক্যাটাগরি দিতে পারেন। তাহলে একজন ভিজিটর খুব সহজেই এক পেজ থেকে বিভিন্ন পেজে যেতে পারবেন এবং ক্যাটাগরি থেকে বিভিন্ন পোস্ট পড়তে পারবেন।

একই সাথে অনেক বড় আর্টিকেল গুলোর মধ্যে Table of content ব্যবহার করতে পারেন। Table of content সূচিপত্র অর্থাৎ এটি পোষ্টের উপর দিকে থাকে আপনি এই সূচিপত্রের যেকোনো অংশে ক্লিক করলে সেটি আপনাকে পোষ্টের ওই অংশটিতে নিয়ে যাবে।

আমাদের ওয়েবসাইটে প্রত্যেকটি পোস্টের উপরের দিকে সূচিপত্র নামে একটি অপশন দেখতে পাবেন। এই অপশনের যেকোনো শিরোনামে ক্লিক করলে আপনি পোষ্টের ওই অংশে চলে যাবেন। যেটি ভিজিটরের জন্য খুব সহজ এবং পোষ্টের নির্দিষ্ট অংশ খুঁজে পেতে ভিজিটরদের সময় নষ্ট করতে হয় না। অর্থাৎ ভিজিটররা খুব সহজেই নেভিগেশন করতে পারেন।

প্রত্যেকটি পেজের সাথে হোমপেজের কানেক্ট রাখুন। এতে করে ভিজিটররা খুব সহজেই হোম পেজে ফিরে আসতে পারবে।

সাইটে সার্চ করার ব্যবস্থা রাখুন। এতে করে কোনো ইউজার খুব সহজেই সাইটের যেকোনো কন্টেন্ট খুঁজে পেতে পারবে।

আপনার ওয়েবসাইটে সহজ নেভিগেশন সিস্টেম রাখবেন। অন্ততপক্ষে মেনু, ক্যাটাগরি ও সার্চ অপশন দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

বাংলা সাইটে গুগল এডসেন্স পাওয়া যায়?

কয়েক বছর আগেও বিভিন্ন মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতো, বাংলা সাইটে গুগল এডসেন্স পাওয়া যায়? কারণ গুগল তখন বাংলা সাপোর্ট করত না। অর্থাৎ বাংলা সাইটে এডসেন্সের জন্য আবেদন করলে সেটি এপ্রুভ হতো না।

বর্তমানে সুখের সংবাদ হচ্ছে, গুগল বাংলা সাপোর্ট করে। অর্থাৎ যেকোনো বাংলা সাইটের জন্য আপনি গুগল এডসেন্স পেতে পারেন। যেমন আমাদের ট্রিক ব্লগ বিডি সাইটটি বাংলা ওয়েবসাইট। আমরা গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে ইনকাম করছি। তাই আপনাদের কোন বাংলা ওয়েবসাইট থাকলে আপনার সাইট দিয়ে ইনকাম করতে পারেন।

কিভাবে গুগল এডসেন্স একাউন্ট খুলব?

গুগল এডসেন্স একাউন্ট তৈরি করা খোলা খুবই সহজ। এজন্য আপনাকে খুবই সহজ কিছু কাজ করতে হবে।

এ বিষয়ে শীঘ্রই একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হবে। সেখানে গুগল এডসেন্স একাউন্ট খোলার সম্পূর্ণ নিয়মকানুন তুলে ধরা হবে।

এডসেন্সের চিঠি কিভাবে হাতে পাবেন?

গুগল অ্যাডসেন্স পাওয়ার পাওয়ার আপনার অ্যাড্রেস ভেরিফিকেশন করার প্রয়োজন হয়। এজন্য অ্যাড্রেস ভেরিফিকেশন করার জন্য গুগল আপনাকে একটি চিঠি পাঠাবে এবং এই চিঠির মধ্যে একটি কোড থাকবে। এই কোডটি আপনার এডসেন্স একাউন্টে দিয়ে দিলেই অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন হয়ে যাবে।

কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই এই চিঠিটি হাতে পায় না। অর্থাৎ চিঠিটি না পাওয়ার কারণে অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করতে পারেনা। এর কিছু কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, আপনার এডসেন্স একাউন্টে দেওয়া এড্রেসটি ভুল দিয়ে থাকলে চিঠিটি নাও পেতে পারেন। দ্বিতীয়তঃ পোস্ট অফিসের গাফিলতির কারণে আপনার চিঠি না পেতে পারেন। তৃতীয়তঃ পোস্ট অফিস থেকে আপনার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলে। এই কয়েকটি কারণে আপনি চিঠিটি হাতে নাও পেতে পারেন।

কিন্তু গুগল কর্তৃপক্ষ চিঠির জন্য তিনবার আবেদন করার সুযোগ রেখেছেন। অর্থাৎ চিঠির জন্য একবার আবেদন করার পর এক মাস অপেক্ষা করতে হবে। এর পর দ্বিতীয়বার আবার আবেদন করতে পারবেন। এরপর আবারো যদি হাতে না পান সে ক্ষেত্রে পুনরায় তৃতীয়বারের মতো আবার আবেদন করতে পারবেন।

যখন পরপর তিনবার আপনি চিঠি হাতে না পাবেন তখন এডসেন্স একাউন্টে আলাদা একটি অপশন দেখতে পাবেন। ওই অপশনের মাধ্যমে আপনার আইডি কার্ড দিয়ে খুব সহজেই আপনার একাউন্টটি ভেরিফাই করে নিতে পারবেন। অর্থাৎ এক্ষেত্রে আপনার কোন চিঠির দরকার হবে না।

তাই চিঠি হাতে না পেলেও কোনো টেনশন এর বিষয় নেই। আপনি আইডি কার্ডের মাধ্যমেও একাউন্ট ভেরিফাই করতে পারবেন। তবে অবশ্যই এজন্য আপনাকে তিনবার চিঠির জন্য আবেদন করতেই হবে। যখন তিনবার পর্যন্ত চিঠি হাতে না পাবেন কেবল তখনই আইডি কার্ড দিয়ে একাউন্ট ভেরিফাই করতে পারবেন।

কিভাবে এডসেন্সের টাকা পাবেন

আপনার এডসেন্স একাউন্টে পেমেন্ট মেথোড যুক্ত করুন। আপনি ব্যাংক অথবা কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট নিতে পারবেন। যার নামে একাউন্ট তার নামেই ব্যাংক একাউন্ট হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। যে কারো একাউন্টেই টাকা তুলতে পারবেন।

কিভাবে এডসেন্সের টাকা পাবেন
এডসেন্স পেমেন্ট

এডসেন্সের পেমেন্ট অটোমেটিক হয়। ব্যাংক বা কার্ড এড করে রাখলে প্রত্যেক মাসের ২১ তারিখে পেমেন্ট দেওয়া হবে। পেমেন্ট পেতে হলে এডসেন্স একাউন্টে কমপক্ষে ১০০ ডলার থাকতে হবে। ১০০ ডলারের কম থাকলে ঐ মাসে পেমেন্ট পাবেন না। একটা উদাহরণ দেও যাক।

ধরুণ, আপনার একাউন্টে ৯৮ ডলার আছে। তাহলে আপনি এই মাসে টাকা পাবেন না। এই ৯৮ ডলার পরবর্তী মাসের সাথে যোগ হয়ে যাবে।

আরেকটি বিষয় ক্লিয়ার করি। প্রত্যেক মাসের ১ তারিখ থেকে শুরু করে শেষ দিন পর্যন্ত যে টাকা ইনকাম হবে সেটা পরবর্তী মাসের ২১ তারিখে পাঠানো হবে।

অর্থাৎ, ধরুন জানুয়ারি মাসের ১ তারিখ থেকে ৩১ তারিখে আপনার ৪৫০ ডলার ইনকাম হলো। এটা সম্ভাব্য আয়। ফেব্রুয়ারী মাসের ১ তারিখে এটি Finalised হয়ে মূল একাউন্টে যুক্ত হবে। অর্থাৎ ইনভ্যালিড ক্লিকের টাকা বাদ গিয়ে বাকিটা মূল একাউন্টে যুক্ত হবে (অনেক সময় সম্ভাব্য আয়ের থেকে বেড়েও যায়)। এই টাকাটা আপনাকে ফেব্রুয়ারী মাসের ২১ তারিখে পাঠানো হবে। ব্যাংকে টাকা এসে পৌঁছাতে ৬ কার্যদিবস লাগতে পারে।

ইনকাম এত কম কেন?

গুগল এডসেন্সকে আমরা সোনার হরিণ মনে করে থাকি। অনেকেই মনে করেন অ্যাডসেন্স পাওয়ার পরেই লাখ লাখ টাকা ইনকাম করবেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র তার উল্টো হতে পারে। অনেকে এক মাসে ১ ডলার ইনকাম করতে পারেন না। এর কিছু কারণ থাকে। এডসেন্স বিভিন্ন বিষয় হিসাব করে আপনাকে টাকা দিয়ে থাকে।

এডসেন্স ইনকাম কম কেন? (পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন)
Adsense ইনকাম কম কেন?

প্রথম কথা হচ্ছে আপনার কন্টেন্ট গুলো হাই ভ্যালু কনটেন্ট হতে হবে। অর্থাৎ যেগুলোতে CPC অনেক বেশি থাকবে এবং যে কিওয়ার্ডগুলোতে বিজ্ঞাপনদাতারা বেশি টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। সেজন্য আপনার ইনকাম বেশি হয়। তাই আপনার কনটেন্ট সব সময় হাই সিপিসি কীওয়ার্ড এর উপর রাখার চেষ্টা করবেন। তাহলে আপনার ইনকাম কিছুটা হলেও বাড়বে।

কিন্তু যখন নতুন ওয়েবসাইটে অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভাল হয় তখন অনেকেই খুব ভালো ভ্যালুয়েবল কনটেন্ট লিখতে পারেন না। যার কারণে দামি বিজ্ঞাপনগুলো আপনার ওয়েবসাইটে আসেনা এবং আপনার ইনকাম কম হয়।

তাছাড়া আরও কিছু অসুবিধা আছে। যখন নতুন একাউন্ট অ্যাডসেন্সে approve হয় তখন বিভিন্ন অ্যাড ক্যাটেগরি অর্থাৎ Ad unit আপনার জন্য অ্যাভেলেবল থাকে না। পরবর্তীতে আপনার ইনকাম যখন বাড়তে থাকে সেই অনুযায়ী এডসেন্স আরো বিভিন্ন রকমের AD Unit আপনাকে দিয়ে থাকে।

যেহেতু আপনি নতুন সে ক্ষেত্রে আপনি ভাল ভাল Ad ব্যবহার করতে পারছেন না। যার কারণে আপনার ইনকাম কম হচ্ছে। তাই ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। ভাল কনটেন্ট তৈরি করে যান। গুগল অবশ্যই আপনাকে নতুন নতুন ad unit দেবে এবং সেই ad unit ব্যবহার করলে আপনার ইনকাম অনেক বাড়বে।

আরেকটি সমস্যা হচ্ছে যখন ওয়েবসাইটে নতুন এডসেন্স এপ্রুভ হয় তখন ভিজিটরের পরিমাণ যথেষ্ট কম থাকে। আর ভিজিটর যত কম থাকে তখন বিজ্ঞাপন তত কম ক্লিক পড়ে এবং ইনকামও কম হয়। ক্লিক প্রতি খুব কম টাকা পাওয়া যায়।

ধরুন আপনার ভিজিটর ১০০ এখন আপনার সাইটে আজকের ৩টি ক্লিক পড়েছে। এতে আপনি হয়তো ০.৫$ পেতে পারেন। কিন্তু যদি আপনার ওয়েবসাইটে এক হাজার ভিজিটর হয় সে ক্ষেত্রে আপনার হয়ত ৩০ টি ক্লিক পড়বে। এক্ষেত্রে আপনি ১০ ডলারও পেতে পারেন।

এটা বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। আমি এটা বোঝাতে চাচ্ছি যে, যখন ভিজিটর কম থাকে তখন ক্লিক প্রতি টাকার পরিমাণ কম থাকে। কিন্তু যখন ভিজিটর বেশি হয় সে ক্ষেত্রে ক্লিকের পরিমাণ বেশি হয় এবং ক্লিক প্রতি টাকার পরিমাণও বেশি হয়। তাই ভিজিটর বাড়ানোর চেষ্টা করুন। ইনকাম অনেক বাড়বে।

এডসেন্স পেলেই লাখ লাখ টাকা ইনকাম করবেন এমন চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। ভালো কাজ করে যান আপনার জন্য সুদিন অপেক্ষা করছে। গাছ রোপন করেই সাথে সাথে ফল পাবেন এমন চিন্তা বাদ দিন। ফল পাওয়ার জন্য গাছের পরিচর্যা করুন। একদিন অবশ্যই ফল পাবেন এবং সেই ফল মিষ্টি হবে।

CPC, CPM, CTR ইত্যাদি কি?

এডসেন্স নিয়ে আলোচনা করতে গেলেই বিভিন্ন বিষয় সামনে আসে। যে বিষয়গুলো আমরা অনেক সময় বুঝতে পারিনা সেগুলো হচ্ছে Page views, Estimated Earning, CPC, CPM, CTR, Impression, Impression CTR, Page RPM ইত্যাদি। চলুন কোনটি দ্বারা আসলে কি বোঝায় সেই বিষয়টি জেনে নেই। এতে করে এডসেন্স একাউন্টের বিভিন্ন বিষয় বুঝতে খুব সহজ হবে।

Page views: এটা দ্বারা বুঝানো হয় আপনার কয়টি পেজে বিজ্ঞাপন দেখানো হয়েছে। ধরুণ, আজকের দিনে আপনার ৫০০ টি পেজ মোট ১৫০০ বার ভিজিট হয়েছে। সেখানে সকল পেজে বিজ্ঞাপন শো হলে আপনার Page Views হবে ১৫০০। কিন্তু সাধারণত লগিন, রেজিষ্ট্রেশন পেজে বিজ্ঞাপন থাকেনা। ঐসব পেজ ভিজিট হলেও এডসেন্স পেজ ভিউজ বাড়বেনা। কারণ, এসব পেজে বিজ্ঞাপন নেই। এজন্যই Google Analytics ও Adsense এর Page views ভিন্ন হয়।

Estimated earning: এটি দ্বারা নির্দিষ্ট সময়ের সম্ভাব্য আয় বুঝানো হয়। সম্ভাব্য আয় যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে। কমে যেতে পারে অথবা বেড়েও যেতে পারে।

CPC: Cost Per Click (CPC) বলতে বুঝায় কিক প্রতি কত টাকা। অর্থাৎ প্রত্যেক ক্লিকে আপনি গড়ে কত টাকা করে পাচ্ছেন সেটাই হচ্ছে CPC ।

Impression: ইম্প্রেশন হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ে মোট কতগুলো বিজ্ঞাপন শো হয়েছে। ধরুন, ৫ জন ভিজিটর আপনার ৫ টি পেজ ভিজিট করেছে। এক পেজে ৩ টি করে বিজ্ঞাপন আছে। ঐ ৫ জন ভিজিটর ৫ পেজের মোট ১৫ টি বিজ্ঞাপনের মধ্যে ১০ টি দেখেছে। বাকি ৫ টি কোনো কারণে দেখেনি। তাহলে আপনার Impression হবে ১০।

CTR: Click-through rate (CTR) বিষয়টি খুবই কমন। প্রত্যেক ১০০ পেজ ভিউতে কতটি পেজে ক্লিক পড়েছে সেটির শতকরা হিসাব হচ্ছে CTR। ধরুন, ১০০ টি পেজে এড শো হলো। আর ৬ টি পেজের এডে ক্লিক পড়েছে। তাহলে আপনার CTR 6।

Impression CTR: এটি দ্বারা প্রত্যেক ১০০ এডে কতটিতে ক্লিক পড়েছে সেটির শতকরা হিসাব প্রকাশ করে।

Page RPM: Revenue per Mille (Page RPM) বলতে বুঝানো হয় প্রতি ১,০০০ পেজ ভিউতে কত টাকা আয় হয়েছে। অর্থাৎ আপনার সাইটে প্রতি ১,০০০ পেজ ভিউতে যত টাকা ইনকাম হবে সেটাই আপনার পেজ আরপিএম। ধরুন, ২,০০০ পেজ ভিউতে আপনার ১৫$ আয় হয়েছে। তাহলে আপনার Page RPM ৭.৫$।

CPC, CTR, Page RPM, Impression Estimated Earnings ইত্যাদি (গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়)
Page RPM

কিভাবে এডসেন্স CPC ও CTR বাড়াব?

কয়েকটি নিয়ম মেনে মেনে খুব সহজেই এডসেন্সের সিপিসি ও সিটিআর বাড়ানো যায়। এটি মূলত বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষার বিষয়। আমরা আজকে কয়েকটি কমন ট্রিক আপনাদের সাথে শেয়ার করব। এই ট্রিক গুলো মেনে চললে আশা করি খুবসহজেই আপনার সিপিসি ও সিটিআর বাড়াতে পারবেন।

Adsense CPC বাড়ানোর কৌশল

CPC বাড়ানোর জন্য আমরা প্রায় ২ বছর যাবৎ বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষা করে দেখেছি। সেক্ষেত্রে আমাদের ভালো ও খারাপ দুই ধরণের অভিজ্ঞতাই আছে। আপনাদের সাথে আমাদের কৌশলগুলো ও পরীক্ষা-নীরিক্ষার ফলাফল শেয়ার করছি।

AMP ইনকাম বাড়ায় না কমায়?

আমাদের গবেষণা অনুযায়ী যেসব সাইটের মোবাইল ডিভাইসের স্পীড খুবই কম সেসব সাইটে AMP ব্যবহার করলে গুগল র‍্যাংকিং ও CPC বাড়ে।

কিন্তু যাদের সাইটের স্পীড যথেষ্ট ভালো তারা AMP ব্যবহার করলে ইনকাম কমে যায়। CPC খুবই কম থাকে। তাই যেসব সাইটের স্পীড খুবই ভালো তারা AMP ব্যবহার না করাই ভালো।

Auto ad ব্যবহার করব কি করব না?

গুগল Auto ad ব্যবহারের পরামর্শ দিলেও আমরা এক্ষেত্রে উল্টো ফলাফল পেয়েছি। সাইটে শুধুমাত্র অটো এড ব্যবহার করলে CPC খুবই কম থাকে।

কিন্তু অটো এডের মধ্যে Anchor ads এবং Vignette ads এ খুব ভালো CPC পাওয়া যায়। দুইটার মধ্যে Vignette ads এ সবচেয়ে বেশি সিপিসি পাওয়া যায়।

তাই আমাদের পরামর্শ, অটো এডের মধ্যে এই দুইটি Ad format ব্যবহার করুন। In-page ads এবং Matched content ফরমেটটি বন্ধ রাখাই আমাদের কাছে ভালো মনে হয়েছে।

সর্বশেষ কথা হচ্ছে Auto ad অবশ্যই ব্যবহার করুন। তবে অটো এডের সকল ফরমেট ব্যবহার না করাই ভালো।

Ad unit অবশ্যই ব্যবহার করুন

Ad unit এর বিজ্ঞাপনগুলোতে খুব ভালো CPC পাওয়া যায়। তাই অবশ্যই Ad unit ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন, সকল ad unit অবশ্যই Responsive রাখতে হবে। তা না হলে ইনকাম কমে যাওয়ার সম্ভাবন অনেক বেশি।

ভালো CPC পেতে Ad placement

সাইটের Header এর Display ad দিলে সেটিতে সর্বাধিক CPC পাওয়া যায়। তাই Header এ অবশ্যই একটি বিজ্ঞাপন রাখুন।

পোস্টের শুরুতে ১ টি রাখতে পারেন। এটিতেও ভালো CPC পাওয়া যায়। এটিও Display ad দিতে পারেন।

৩ বা ৪ নম্বর প্যারাতে ১ লিংক এড দিন। এটিতেও ভালো ইনকাম করতে পারবেন। CPC ও মোটামুটি ভালো পাবেন।

পোস্টের শেষে আরেকটি Display ad দিন। এটিতে খুব বেশি ক্লিক না পড়লে ডিলিট করে দেখতে পারেন।

CTR বাড়ানোর উপায়

CPC এর সাথে সাথে CTR বাড়াতে পারলে ইনকাম অনেক বেড়ে যায়। তাই এই দিকেও নজর দেওয়া উচিত। তাহলে কিভাবে CTR বাড়াবেন?

খুবই সহজ Header এর ad এ খুব বেশি কিক পড়ে। তাই এই এডটি রাখলে CTR বাড়বে। CTR বাড়াতে যেসব জায়গায় Ad দিবেন।

  • Header
  • Before Content
  • After paragraph 3 or 4

CTR বাড়ানোর জন্য Vignette ads অবশ্যই রাখবেন। Auto ad এর মধ্যে এই ফরমেটে সবচেয়ে বেশি ক্লিক পাওয়া যায়।

এডসেন্স পাওয়ার পর কোন কোন বিষয়ের দিকে নজর দিতে হবে?

এডসেন্স পেলেই কাজ শেষ নয় বরং শুরু। আপনাকে আরো অনেক বেশি সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। এডসেন্স পাওয়ার পর যেসব বিষয়ে আপনাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে তেমন কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে জেনে নেই।

কপি করার মানসিকতা দূর করা

এডসেন্স পাওয়ার নিয়ম কানুন জেনে এডসেন্স তো পেলাম। এবার একটু কিছু কিছু কপি করে পোস্ট করে পেলে। এমন মানসিকতা দূর করতে হবে।

এডসেন্স পাওয়ার পর কপি করলে আপনি হয়তো সাময়িক কোনো সমস্যায় পড়বেন না। কিন্তু এর কারণে যে কোন সময় আপনি বিপদে পড়তে পারেন। আপনার একাউন্ট ডিজেবল হয়ে যেতে পারে। তাই অবশ্যই এমন মানসিকতা থেকে দূরে থাকুন।

ভুলেও নিজের এডে নিজে ক্লিক করবেন না

অনেকে অ্যাডসেন্স পাওয়ার পর নিজের বিজ্ঞাপনগুলোতে নিজেই ক্লিক করেন। এটি সম্পূর্ণ অ্যাডসেন্সের পলিসি বিরুদ্ধে কাজ এবং এর শাস্তি অনেক কড়া। তাই নিজের বিজ্ঞাপনগুলোতে নিজে কখনোই ক্লিক দিবেন না।

মনে রাখবেন, আপনার ক্লিক গুগল ট্র্যাক করে এবং সেই ক্লিক থেকে আসা কোনো টাকা আপনার একাউন্টে যুক্ত হয় না। বরং আপনার একাউন্ট ডিজেবল হওয়ার জন্য আপনি গুগলকে সাজেস্ট করলেন। তাই নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারবেন না। নিজের এডে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন।

বন্ধুদের দিয়ে ক্লিক করানো

অনেকেই দ্রুত ইনকাম করার জন্য বন্ধুদের মোবাইল থেকে এড এ ক্লিক করেন। মনে রাখবেন, গুগল যথেষ্ট স্মার্ট। সে অবশ্যই বুঝে নেবে কোনগুলো আসল ক্লিক এবং কোনগুলো ইনভেলিড ক্লিক। তাই এমন কাজ থেকে দূরে থাকুন। মনে রাখবেন, একবার ধরা খেলে জামিন নাই।

VPN থেকে দূরে থাকুন

অনেকেই ভিপিএন ব্যবহার করে নিজের এডে নিজে ক্লিক করে ইনকাম বাড়ানোর চেষ্টা করেন। অথবা বন্ধুদের মোবাইল থেকে ভিপিএন চালু করে ক্লিক করেন। এতেও কোনো লাভ নেই। বরং আপনি আপনার ক্ষতি ডেকে আনছেন।

আমি পরীক্ষামুলকভাবে কিছু মোবাইলে ভিপিএন চালু করে আমার পরীক্ষামূলক একাউন্টের বিজ্ঞাপনগুলোতে ক্লিক করেছিলাম। প্রায় 26 থেকে 30 ডলারের মতো হয়েছিল। মাস শেষে ওই ডলারগুলো ইনভেলিড ক্লিক হিসেবে সম্পূর্ণ কাটা যায়। তাই এমন কাজ কখনই করতে যাবেন না।

ভিপিএন দিয়ে ক্লিক করার কারণে কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধুর এডসেন্স একাউন্টে এড লিমিট হয়ে যায়। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। ভাল কনটেন্ট তৈরি করুন। এমনিতেই ক্লিক বাড়বে, ইনকাম বাড়বে।

সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

adsense এর জন্য কোন theme ব্যবহার করা সহজ এবং seo friendly?

আপনি ওয়ার্ডপ্রেসের যেকোনো থিম ব্যবহার করতে পারবেন। শুধু খেয়াল রাখবে সাইটের স্পীড আর নেভিগেশন যাতে ঠিক থাকে।

আর্টিকেল কত শব্দের হতে হবে?

আর্টিকেলের ব্যাপারে তেমন কোনো নির্দিষ্টতা নেই। হুম, তবে ছোট পোস্ট হলে সেটা লো ভ্যালু কন্টেন্ট হয়। এমন পোস্ট এডসেন্স গুরুত্ব দেয়না। তাই পোস্ট বড় করে লেখার চেষ্টা করুন। ১,০০০+ শব্দের হলে ভালো হয়।

adsense apply করে theme customize করলে কোনো problem হবে?

না, সমস্যা হবেনা। শুধু স্পীড আর নেভিগেশন ঠিক রাখলেই হলো। আর এডসেন্স কোডটা Head tag এর ভিতরে থাকলেই হলো।

আবেদন করার সময় কয়টি পোস্ট থাকতে হবে?

পোস্টের সংখ্যা এখানে মূখ্য নয়। পোস্ট কতটুকু ভ্যালুয়েবল বা কোয়ালিটি সম্পন্ন সেটাই বড় বিষয়। কেউ ৩ টি পোস্ট করেও এডসেন্স পেয়েছেন বার কেউ ১০০ টা পোস্ট করেও এডসেন্স পাননি। তবে অন্য কোনো সমস্যা না থাওলে ১,০০০+ শব্দের ২৫-৩০ টা পোস্ট হলেই আপনি ৯৯% এডসেন্স পেতে পারেন।

our services are temporarily experiencing delays. we are unable to review your site at this time.
এটার সমাধান?

এটা মূলত এডসেন্সের সার্ভিসের সমস্যা। করোনা মহামারির সময় এই সমস্যাটা অনেকেই Face করছেন। এক্ষেত্রে আপনার ধৈর্য ধরা ছাড়া আর তেমন কিছুই করার নেই। কয়েকদিন পরে আবার আবেদন করে দেখতে পারেন।

৪ মাস হয়ে গেলো এড লিমিট হয়ে আছে সমাধান কি?

Policy center এ গিয়ে দেখেন কোন কারণে এড লিমিট হয়েছে। সেই সমস্যা ফিক্স করার চেষ্টা করুন। তবে বেশিরভাগ নতুন সাইটে Invalid traffic এর কারণে Ad limit হয়। মূলত, ফেসবুক, টুইটার থেকে বেশি ভিজিটর আসলে এই সমস্যাটি হয়। কারণ, এসব ভিজিটর খুবই Poor কোয়ালিটির হয়। তাই ভালো ভালো পোস্ট করুন যাতে অর্গানিক সার্চ ভিজিটর বাড়ে। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার করা বন্ধ করে দিন। সার্চ ভিজিটর বাড়লেই লিমিট সরে যাবে ইনশাআল্লাহ।

কোন ভাষায় এবং কোন বিষয় তাড়াতাড়ি approval পাওয়া যায়?

যেকোনো ভ্যালুয়েবল বিষয় ও অনুমোদিত ভাষায় এডসেন্স পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে রিভিউ কতদিনে করছে সে হিসেবে সময় লাগে।

Google AdSense এর টাকা হালাল না হারাম?

ভাই, আমি আলেম নই। আর এ ব্যাপারে কোনো আলেমের সাথে কথা বলাও সম্ভব হয়নি। তাই সঠিকভাবে কিছু বলতে পারছিনা। তবে, নিজের একটা মতামত দিতে পারি। অনেকেই মনে করেন এডসেন্সে ১৮+ বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। তাই সেই ইনকাম হারাম। এক্ষেত্রে আপনি ১৮+ এডগুলো ad blocker এর মাত্র বন্ধ করে দিতে পারেন।

বেশি ডলার ইনকাম হওয়ার মানদণ্ড কী?
ভিউ/এডক্লিক/অন্যকিছু?

বেশি ডলার ইনকাম অনেক বিষয়ের উপর নির্ভর করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো, ১. কন্টেন্টের কোয়ালিটি ২. ভিজিটরের লোকেশন ৩. ডিভাইস ৪. CPC ৫. CTR ইত্যাদি।

ওয়েবসাইটে যদি আফেলিয়েয়াট লিংক থাকে তাহলে কি এপ্রুভাল পাওয়া যাবে?

জ্বি, পাওয়া যাবে। তবে খারাপ লিংক থাকলে অর্থাৎ জুয়ার সাইট লিংক, ১৮+ সাইট লিংক ইত্যাদি থাকলে এডসেন্স পাওয়া মুশকিল।

এক ওয়েবসাইটে কি দুই ভাষার article থাকলে কি adsense approved হবে?

জ্বি, সমস্যা নাই। ট্রিক ব্লগ বিডিতেও বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ের আর্টিকেল রয়েছে।

আমরা গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় ও এ বিষয়ে সম্পূর্ণ গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আর্টিকেলটি ১ মাস ধরে একটু একটু করে লেখা হয়েছে৷ তাই ভুল ত্রুটি থাকতে পারে। কোনো ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমা করবেন।

যেকোনো মন্তব্য, প্রশ্ন বা অভিযোগ থাকলে নির্দ্বিধায় কমেন্ট করুন। আপনাদের মন্তব্য আমাদেরকে পরবর্তী কাজের জন্য অনুপ্রেরণা যোগায়। সবাই ট্রিক ব্লগ বিডির সাথেই থাকুন।

24 thoughts on “গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় ও পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন”

  1. আপনার আর্টিকেল অনুযায়ী কাজ করছি,তাই আমি ও এডসেন্স পেয়ে গেলাম। আর এই আর্টিকেল টি পুরো পড়লাম,অনেক কিছু জানতে পারলাম। ধন্যবাদ আপনাকে।

    Reply
    • ধন্যবাদ ভাই। আমিতো লেখাটা সাইটে পাবলিশের আগেই আপনার কাছে পাবলিশ করে দিছিলাম। যাহোক, পরামর্শগুলো সবার সাথে শেয়ার করে দিলাম। আশা করি, আপনার মতো সবার উপকার হবে।

      সাথে থাকুন। আরো নতুন কিছু পাবেন।

      Reply
  2. খুব ভালো লাগলো, খুব উপকারী লেখাটি । আমার সমস্যা এই আর্টিকেলে তুলে ধরার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

    Reply
    • আশা করি, আপনি যে সমস্যায় পড়েছেন তা শীঘ্রই কাটিয়ে উঠবেন। মূল্যবান সময় নিয়ে লেখাটা পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

      Reply
  3. আপনার গাইডেন টা মেনে কাজ করার চেষ্টা করবো আপনি পাসে থাকবেন আসা করি।

    Reply
    • চেষ্টা করেন ভাই। সবই সম্ভব। আর কিছু না পারা মানুষ পৃথিবীতে নাই। এটা না পারলেও অন্য কিছু অবশ্যই পারবেন।

      প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই মূল্যবান কিছু থাকে।

      Reply
  4. আপনার আর্টিকেলটি পড়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম। যদি কোন সমস্যা ফেইস করি তাহলে অবশ্যই আপনার সাথে যোগাযোগ করবো। ধন্যবাদ।

    Reply
    • শুনে খুব ভালো লাগলো। কোনো সমস্যায় পড়লে এই পোস্টে কমেন্ট করিয়েন। আমি রিপ্লাই দিব ইনশাআল্লাহ।

      Reply
  5. অসাধারণ লিখেছেন ভাইয়া। যারা আর্টিকেল টি পড়েছেন আশা করছি সকলেই উপকৃত হবেন।

    Reply
    • আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আরো নতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।

      Reply

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.