শিং মাছ কাটা দিলে করণীয় কি?

শিং মাছের কাটা হাতে ফুটলে কি করতে হয়

মাছ ধরতে গিয়ে শিং মাছে কাটা দেয়নি এমন মানুষ খুব কমই আছে। এর বিষ ক্ষেত্র বিশেষে খুব মারাত্মক হতে পারে। আজকের টপিক শিং মাছ কাটা দিলে করণীয় কি ও এ সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা।

শিং মাছ কাটা দিলে করণীয়
ছবিঃ সিলেট ভয়েস
শিং মাছের কাটা হাতে ফুটলে করণীয়
ছবিঃ সিলেট ভয়েস

কথিত আছে যে, ঢোঁড়াসাপের সমস্ত বিষ শিং মাছ, লাল পিঁপড়া, বোলতা এবং ভিমরুল নিয়েছে। সেজন্য ঢোঁড়াসাপের আশীতে কোনো বিষ নাই। দংশন করলেও বিষ থাকে না।

সে যাই হোক, এসব গ্রামের কথিত বচন। তবে মূল বিষয় হলে শিং মাছ বা বোলতার কামড়ে যে বিষক্রিয়া তৈরি হয় তা একজন ভিকটিম হাড়ে হাড়ে টের পায়।

শিং মাছের কাটার বিষ

শিং মাছের কানের নিচে যে দুটো কাঁটা বিদ্যমান। এতেই রয়েছে এক ধরণের বিষাক্ত পদার্থ। একবার কারো হাতে পায়ে ফুটলেই ৫ সেকেন্ডের মধ্যে প্রতিটি রগে চলে যায়। সমস্ত শরীর অবশ হতে থাকে।

মাছ ধরার সময় শিং মাছ কাটা দিলে প্রচন্ড ব্যথা শুরু হয়। এতে হিতাহিত বোধশক্তি লোপ পায়। তাই প্রথম অবস্থায় মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে।

অনেকে অনেক প্রকার তসরিফ করবে। যেগুলোর বেশিরভাগই অকার্যকরী। এমনকি এর থেকে প্রচন্ড খারাপ অবস্থা হয়ে যেতে পারে।

আজকে আমরা কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা সম্পর্কে জানবো। একইসাথে হাতে শিং মাছের কাটা ঢুকলে ব্যাথা কমানোর ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে ছোট করে জানবো।

শিং মাছ কাটা দিলে করণীয়

শিং মাছের কাটা | শিং মাছ কাটা দিলে করণীয়
শিং মাছ

কুসংস্কার ও আজেবাজে কথায় কান না দিয়ে প্রথমে ক্ষতস্থান সাবান দিয়ে পরিস্কার করুন। এতে অন্য কোন জীবানু আক্রমণ করবে না। তারপর যতক্ষণ না ব্যথা কমে, ততক্ষণ আগুনে সেঁক দিন। এতে ধীরে ধীরে ব্যথা কমে আসবে। এরপর ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ক্ষতস্থানে খোচাখুচি করবেন না। কাটা ভেঙ্গে ভিতরে থেকে গেলে এক মুহুর্তও দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ নিন। সাধারণত ডাক্তাররা Tab: Aceclofenac এবং Omeprazole দিয়ে থাকেন। এছাড়াও শিং মাছের কাটা ফুটলে কোন কোন ডাক্তার Paracetamol ও দিয়ে থাকেন। এতে সম্পূর্ণভাবে ব্যথা কমে যাবে।

মনে রাখবেন, আমার কথা শুনেই এই ঔষধগুলো খেয়ে ফেলবেন না। অবশ্যই অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। কোন প্রকার ঔষধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়। তা না হলে কোন কোন সময় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ক্ষতস্থানে যেনো ইনফেকশন না হয়

শিং মাছের কাটা ফুটলে দ্রুত সেটি পরিষ্কার করতে হবে। পরবর্তীতেও ক্ষতস্থানের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যাতে সেখানে ইনফেকশন না হয়।

হ্যান্ড রাব দিয়ে সেটিকে ওয়াশ করা যেতে পারে। ক্ষতস্থান পেকে গেলে, ফুলে গেলে বা লাল হয়ে গেলে বুঝতে হবে ইনফেকশন হয়েছে। এমতাবস্থায় দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

পায়ে শিং মাছের কাটা ফুটলে করণীয়

শিং মাছের কাটা হাতে ও পায়ে ফুটতে পারে। পায়ে বা হাতে যেখানেই কাঁটা ফুটুক খুব দ্রুত মাছ ধরা থেকে উঠে আসুন।

উপরের নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক চিকিৎসা করুন। আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার করে গরম শেক দিন।

ব্যাথা কমে গেলে খুবই ভালো। না কমলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ব্যাথা নাশক খেতে পারেন।

ফ্রি তে ডাক্তারকে কল করুন

অনেকেই মনে করবেন সামান্য শিং মাছে কাটা ফুটানোর জন্য আবার ডাক্তারের কাছে যেতে হবে? ভুল ধারণা ভাই। কোন কিছুকেই ছোট করে দেখা ঠিক নয়। ছোট সমস্যা থেকেই পরবর্তীকালে বড় সমস্যা দেখা দেয়।

তবে আমি বলব ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আমি ও কিন্তু ছোটখাট বিষয়ের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেই। তবে ডাক্তারের কাছে যাইনা। কিভাবে?

আমি ডাক্তারকে ফোন করে জেনে নেই। বাংলাদেশ সরকার সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য বাতায়ন নামে ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা চালু করেছে।

আপনি যেকোন মোবাইল থেকে ১৬২৬৩ নম্বরে কল করে ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবেন। এটি দিনে ২৪ ঘন্টাই চালু থাকে। আপনি চাইলে শিং মাছের কাটা নিয়েও পরামর্শ এমনকি ঔষধও নিতে পারেন।

ব্যাথা দূর করার প্রচলিত ভুল চিকিৎসা

১. শিং মাছের লেজে কামড় দিয়ে মন্ত্র বলা

অনেকে বলে শিং মাছ কাটা দিলে সাথে সাথে শিং মাছেটা ধরে লেজে কামড় দিয়ে বলতে হবে, ‘শিং এঁরে শিং, তোর বিষ তুই নে, আমার বিষ আমায় দে।’

ভেবে দেখুন, আপনার সমস্ত শরীর ব্যথাতুর। এমতাবস্থায় আবারও কাঁটাযুক্ত শিং মাছ ধরা কতটা বেকামি। আর এ ধরনের মন্ত্র বলে কতটা ফায়দা হবে, তা আপনারাই বিবেচনা করুন।

২. কাঁটা ভেঙে দিতে হবে

প্রথমে একটা বুলেট আপনার বুকে ঢুকে গেলে, তারপরই আপনি বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরলেন। এটা কেমনে কি?

৩. মরিচ ডলে দিতে হবে

ঝাঁঝালো মরিচের ঝাল সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত আছি। আর কাঁটা লাগা ক্ষতস্থানে মরিচ ডলে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত?

৪. শিং মাছের বিষ নামানোর মন্ত্র/ঝাঁড়ফুক করা

““কালী আনে ছাম গাহিন দেবী কুন্ঠে যাইস, জেঠিকার বিষ সেইঠে যাইস মুহাম্মদের মাথা খাইস””… এ ধরনের মন্ত্র বলে লোক ঠকানো যায়, কিন্তু বিষ নামানো যায় না। এসব গাঁজাখুরি মন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়।

৫. গরম পানি দেওয়া

শিং মাছের কাটা ফুটলে হাতে কুসুম গরিম পানি দেওয়া যেতে পারে। এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বাতায়নের একজন ডাক্তার।

৬. শিমের বিচি

শিমে বিচি দু টুকরো করে এক টুকরো ক্ষতস্থানে চেপে ধরলেই নাকি ব্যথা সারে। এটাও গাঁজাখুরি গল্প। শিমের বিচিতে এ ধরনের কোন উপাদান নাই যা দ্বারা ব্যথা কমে।

আরো পড়ুনঃ ঘাড় ব্যাথার কারণ ও ১৪ টি সমাধান

৭. প্রসাব থেরাপি

কাটা ফুটলেই শিং মাছের গায়ে প্রসাব করতে হবে। এতে ব্যথা কমে। এ ধরনের কথাও গ্রামে শোনা যায়। এটাকে কি বলবেন, আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন।

শিং মাছের কাটায় কি থাকে

সাপের বিষে যেমন বিষাক্ত পদার্থ থাকে ঠিক তেমনি শিং মাছের কাটায় এক ধরণের বিষাক্ত পদার্থ থাকে। তাই শিং মাছ মানুষকে কাটা ফুটালে অনেক যন্ত্রণা হয়। আরো হেলথ্ টিপস পান এখানে

লেখক- মোঃ আরিফ হোসেন

আশা করি, শিং মাছ কাটা দিলে করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে আপনাদের কিছুটা হলেও ধারণা দিতে পেরেছি। এরকম স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন টিপ্স পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন ট্রিক ব্লগ বিডি

Sponsored by TrickBlogBD

ফ্রী মোবাইল রিচার্জ, বিভিন্ন এক্সক্লুসিভ টিপস & ট্রিক্স পেতে ও মতামত জানাতে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top