ওয়েব ক্যাশ কি এবং এটি কিভাবে ওয়েবসাইটকে ফাস্ট করে?

ওয়েব ক্যাশ (Cache) কি?

ওয়েব ক্যাশ কি? চলুন, ছোট করে জেনে নেই এটি কি কাজ করে। প্রথম কথা হলো এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা যেকোনো ওয়েবসাইটকে ফাস্ট লোড হতে সাহায্য করে। একইসাথে সার্ভারের উপর কম চাপ ফেলে।

ওয়েব ক্যাশ কিভাবে কাজ করে?

যখন কোনো সাইটে ভিজিট করা হয় তখন সেই সাইট থেকে ডাটাবেইসে রিকুয়েষ্ট যায়। সেখান থেকে লোড হয়ে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ আমাদেরকে কন্টেন্ট শো করে।

ধরুন, আপনি সকাল বেলায় প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি খবরের পেজ পড়ছেন। এতে ডাটাবেইস থেকে তথ্য কুয়েরি করে আপনার সামনে আসছে। এতে ডাটাবেইসে একটা চাপ পড়ছে। কোনো কারণে, আপনি আবার বিকালে সেই একই নিউজ পড়তে গেলেন। একইভাবে আবার সেই ডাটাবেইস থেকে তথ্য কুয়েরি হয়ে আপনি দেখতে পেলেন। এতে কুয়েরি হতে কিছুটা সময় লাগে ও সার্ভার রিসোর্স বেশি খরচ হয়।

ওয়েব ক্যাশ
ওয়েব ক্যাশ

একই পেজে আপনি ছাড়াও আরো হাজার হাজার মানুষ ভিজিট করে। কিন্তু নিউজটি কিন্তু পরিবর্তন হয়না। প্রত্যেকবার ভিজিট করলে ডাটাবেইস থেকে কুয়েরি করে আপনার কাছে তথ্য পৌঁছাতে ডাটাবেইসে চাপ পড়ে ও সময়ও বেশি লাগে।

কিন্তু এটি ডাটাবেইসে কুয়েরি না হয়ে সরাসরি html এ থাকলে সেটি দ্রুত লোড হতো। একইসাথে ডাটাবেইসেও চাপ কম পড়তো। এজন্যই মূলত ওয়েব ক্যাশের উদ্ভব।

ওয়েবসাইটে কেন ক্যাশ (cache) সিস্টেম ব্যবহার করবেন?

যখন কোনো ওয়েবসাইটে ক্যাশ সিস্টেম চালু থাকে তখন ক্যাশ মেমোরিতে ঐ পেজের একটি অস্থায়ী html ফাইল তৈরি হয়। কেউ ঐ পেজে ভিজিট করলে ডাটাবেইসে কুয়েরি না করেই সে ঐ পেজটি সরাসরি দেখতে পায়। এতে লোডিং টাইম কমে যায় ও ডাটাবেইসে কম চাপ পড়ে।

লোডিং টাইম কমে যাওয়ার কারণে ভিজিটর খুব দ্রুত সাইট ব্রাউজ করতে পারে। সাইট স্পীড গুগলের একটি বড় র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর। তাই সাইট ফাস্ট লোড হলে এটি আপনাকে গুগলে ভালো র‍্যাংক পেতে সাহায্য করবে।

আরো পড়ুনঃ ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের স্পীড বাড়ানোর উপায়

তাহলে বুঝতেই পারছেন কেন ওয়েব ক্যাশ ব্যবহার করতে হবে।

ওয়েব ক্যাশ এর অসুবিধা

আর্টিকেলের উপরের অংশে আমরা ওয়েব ক্যাশ এর সুবিধাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু সুবিধার পাশাপাশি ক্যাশের কিছু অসুবিধাও রয়েছে। চলুন, সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।

১. লগিন সমস্যা

কোনো ওয়েবসাইটের লগিন পেজ যদি ক্যাশ করা থাকে তাহলে সেই সাইটে লগিন করার সময় সমস্যা হতে পারে। সঠিক ইউজার ও পাসওয়ার্ড দিয়েও অনেক সময় লগিন করা যায়না। তাই লগিন পেজকে ক্যাশ না করাই ভালো।

২. কন্টেন্ট আপডেট সমস্যা

ইন্টারনেট জগতে স্থায়ী বলতে কোনো কিছুই হয়না। বেশিরভাগ বিষয়ই অস্থায়ী ও আপডেটেবল। একটা আর্টিকেল ২০১০ সালে যেমন ছিলো ২০২২ সালে এসে সেটি সেরকম থাকবেনা এটাই স্বাভাবিক। তাই ওয়েব মালিকদের নিয়মিত তাদের কন্টেন্ট আপডেট করতে হয়।

কিন্তু আর্টিকেলটি ক্যাশ করা থাকলে ইউজাররা আপডেট করা কন্টেন্টের পরিবর্তে পুরাতন কন্টেন্ট দেখতে পায়। এজন্য অবশ্য কন্টেন্ট আপডেট করার পর পুরাতন ক্যাশ ক্লিয়ার করে নতুন করে ক্যাশ করতে হয়।

Best wordpress cache plugin

ক্যাশ সিস্টেম বিষয়টা পড়ে কঠিন মনে হলেও ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে এই সিস্টেমটি ব্যবহার করা খুবই সহজ। ওয়ার্ডপ্রেসে ক্যাশের জন্য কিছু অসাধারণ প্লাগিন রয়েছে। এই প্লাগিনগুলো ব্যবহার করে আপনি খুব সহজেই সাইটে ক্যাশ সিস্টেম ব্যবহার করতে পারেন। সেরকম কয়েকটি জনপ্রিয় প্লাগিন হলোঃ

  • Wp rocket
  • Litespeed cache
  • Wp fastest cache
  • W3 total cache ইত্যাদি

শেষ কথা

ওয়েবসাইটকে ফাস্ট করার জন্য ও সার্ভারের উপর চাপ কমানোর জন্য অবশ্যই ওয়েব ক্যাশ ব্যবহার করা উচিত। এতে যেমন আপনার ইউজাররা খুশি হবে, ঠিক একইভাবে আপনার গুগল র‍্যাংকিং বাড়বে। সর্বোপরি আপনার ইনকাম বৃদ্ধি পাবে।

Sponsored by TrickBlogBD

ফ্রী মোবাইল রিচার্জ, বিভিন্ন এক্সক্লুসিভ টিপস & ট্রিক্স পেতে ও মতামত জানাতে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top