কেন গিগাবিট রাউটার ছাড়া অন্য রাউটার কেনা উচিত নয়?

আপনি কি আপনার ইন্টারনেট স্পীডের পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছেন? হয়তো না। বর্তমান সময়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য একটি গিগাবিট রাউটার অপরিহার্য। প্রচলিত রাউটার দিয়ে আপনি ইন্টারনেটের সম্পূর্ণ স্পীড উপভোগ করতে পারছেন না, যা আপনার ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে কমিয়ে দিচ্ছে।

.আপনার ইন্টারনেট সংযোগে কি রয়েছে 100 Mbps-এরও বেশি ব্যান্ডউইথ, কিন্তু রাউটারের কারণে আপনি তা উপভোগ করতে পারছেন না? এই আর্টিকেলে আমরা দেখাবো কেন গিগাবিট রাউটার আপনার জন্য সেরা পছন্দ হতে পারে এবং কীভাবে এটি আপনার ইন্টারনেটের অভিজ্ঞতা পরিবর্তন করবে। অবশেষে, গিগাবিট রাউটার কেনার সময় কোন বিষয়গুলোতে খেয়াল রাখবেন তা নিয়েও আলোচনা করবো। চলুন, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানি।

গিগাবিট রাউটার কি?

গিগাবিট রাউটার হল একটি নেটওয়ার্ক ডিভাইস যা একাধিক ডিভাইসের মধ্যে ইন্টারনেট সংযোগ শেয়ার করে এবং ১০০০ মেগাবিট প্রতি সেকেন্ড (১ গিগাবিট প্রতি সেকেন্ড) পর্যন্ত ডাটা ট্রান্সফার স্পীড সমর্থন করে। এটি উচ্চ গতির ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য অত্যন্ত কার্যকর এবং আপনার ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে অনেকগুণ বৃদ্ধি করবে।

Gigabit Router

গিগাবিট রাউটারের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. উচ্চ ট্রান্সফার স্পীড: গিগাবিট রাউটার ১০০০ Mbps পর্যন্ত ডাটা ট্রান্সফার করতে পারে, যা নরমাল রাউটারের (১০০ Mbps) চেয়ে অনেক দ্রুত।
  2. বহু ডিভাইস সংযোগের সক্ষমতা: গিগাবিট রাউটার একসাথে বহু ডিভাইস সংযোগ করেও উচ্চ গতির ইন্টারনেট সরবরাহ করতে পারে, ফলে প্রতিটি ডিভাইসে স্পীডের কোনো কমতি হয় না।
  3. ফিউচার প্রুফ: উচ্চ স্পীডের ইন্টারনেটের জন্য প্রস্তুত, গিগাবিট রাউটার ভবিষ্যতে আরও উন্নত ইন্টারনেট স্পীড ও প্রযুক্তির জন্য উপযোগী।
  4. WAN এবং LAN পোর্টের গিগাবিট সমর্থন: গিগাবিট রাউটারের WAN এবং LAN পোর্টগুলো গিগাবিট স্পীড সাপোর্ট করে, ফলে ডিভাইসগুলোর মধ্যে দ্রুত ডাটা ট্রান্সফার সম্ভব।

গিগাবিট রাউটার ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা

আজকের দিনে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য গিগাবিট রাউটার অপরিহার্য। প্রচলিত নরমাল রাউটার দিয়ে ইন্টারনেটের পূর্ণ স্পিড ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব। নিচে এর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো।

ইন্টারনেট স্পীড ও এক্সট্রা ব্যান্ডউইথ

ধরুন, আপনার ইন্টারনেট স্পীড 7 Mbps। তবে এর সাথে কিছু নির্দিষ্ট সাইটের জন্য বাড়তি স্পীড বরাদ্দ থাকে, যেমন:

  1. BDIX: 100 Mbps
  2. Facebook: 100 Mbps
  3. YouTube: 100 Mbps
  4. FTP server: 100 Mbps

এই এক্সট্রা স্পীডগুলো ISP ভেদে কম-বেশি হতে পারে, তবে সাধারণত ৩০ Mbps এর নিচে হয় না। উপরের উদাহরণ অনুযায়ী, আপনার মোট স্পীড বা ব্যান্ডউইথ দাঁড়ায়: 7+100+100+100+100=407 Mbps। কিন্তু নরমাল রাউটারে আপনি কি আসলেই এই 407 Mbps স্পীড কখনো ব্যবহার করতে পারবেন? কখনোই না।

নরমাল রাউটারের সীমাবদ্ধতা

নরমাল রাউটারের মেক্সিমাম স্পীড 100 Mbps। তাই, যদি আপনি এই ধরনের রাউটার ব্যবহার করেন, তাহলে 407 Mbps স্পীডের মধ্যে শুধুমাত্র 100 Mbps ব্যবহার করতে পারবেন। বাকি 307 Mbps স্পীড নষ্ট হবে রাউটারের সীমাবদ্ধতার কারণে। এই ক্ষেত্রে ISP কে 407 Mbps এর বিল দেওয়ার পরেও আপনি মাত্র 100 Mbps ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনার ইন্টারনেট সেবার পুরো সুবিধা আপনি পাবেন না, যা একটি বড় ক্ষতি।

গিগাবিট রাউটারের সুবিধা

গিগাবিট রাউটার ব্যবহার করলে আপনি সম্পূর্ণ স্পীডটি ব্যবহার করতে পারবেন। গিগাবিট রাউটারের WAN পোর্ট এবং 5GHz এর স্পীড যদি 1 Gbps বা এর উপরে হয়, তাহলে আপনার ইন্টারনেটের পূর্ণ স্পীড উপভোগ করা সম্ভব হবে। এতে আপনার ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা হবে আরো ভালো। এক্ষেত্রে আপনি সর্বোচ্চ 1 গিগাবিট বা 1000 Mbps পর্যন্ত স্পীড পেতে পারেন। অর্থাৎ আপনার যদি 407 Mbps এর লাইন হয় তাহলে আপনি পুরো স্পীডটাই পাবেন।

গিগাবিট রাউটার ব্যবহার করলে আপনি পাবেন:

  • বিদ্যুৎ গতিতে ইন্টারনেট
  • ঝামেলামুক্ত স্ট্রিমিং
  • গেমিংয়ের নতুন অভিজ্ঞতা
  • সমস্ত ডিভাইসে দ্রুত সংযোগ
  • এবং আরও অনেক কিছু!

কেনার সময় পোর্ট স্পীড কেন দেখে কিনতে হবে?

গিগাবিট রাউটার কিনার সময় রাউটারের পোর্ট স্পীড বিশেষভাবে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। রাউটারের পোর্ট স্পীড যদি গিগাবিট না হয়, তবে রাউটারটি উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ হ্যান্ডেল করতে পারবে না। রাউটারের WAN এবং LAN পোর্টগুলোর স্পীড গিগাবিট হলে, ডিভাইসগুলোর মধ্যে ডাটা ট্রান্সফার দ্রুত হবে এবং ইন্টারনেট সংযোগের পূর্ণ সুবিধা পাওয়া যাবে।

Gigabit Port

কিছু রাউটারের প্রচার ভ্রান্তি

বাজারে কিছু রাউটার গিগাবিট রাউটার হিসেবে প্রচার করা হয়, কিন্তু বাস্তবে সেগুলো গিগাবিট স্পীড সরবরাহ করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, TP-Link Archer C54 রাউটারটির 2.4 GHz ব্যান্ডের স্পীড 300 Mbps এবং 5 GHz ব্যান্ডের স্পীড 867 Mbps। দুই ব্যান্ডের স্পীড যোগ করে 1167 Mbps দেখানো হয়, যা 1 Gbps এর চেয়ে বেশি। তাই এগুলোকে গিগাবিট রাউটার বলে প্রচার করা হয়। কিন্তু এইভাবে হিসাব করলে সত্যিকার অর্থে 1 Gbps স্পীড পাওয়া যায় না। কারণ, একটা ডিভাইসে একই সাথে 2.4 GHz এবং 5 GHz কখনোই ব্যবহার করা যায়না।

এছাড়া, এই রাউটারের পোর্টগুলো 10/100 পোর্ট, অর্থাৎ এই পোর্টগুলো 100 Mbps এর উপরে ডাটা ট্রান্সফার করতে সক্ষম নয়। তাই, এই ধরনের রাউটারগুলোকে গিগাবিট রাউটার বলা যাবে না। প্রকৃত গিগাবিট রাউটার কিনতে হলে নিশ্চিত হতে হবে যে, রাউটারের WAN এবং LAN পোর্টগুলো গিগাবিট স্পীড সাপোর্ট করে। একই সাথে রাউটারের 5 GHz ব্যান্ডের স্পীড 1000 Mbps তা তার বেশি ব্যান্ডউইথ এর হতে হবে।

বিঃদ্রঃ অনেক রাউটারের 5 GHz ব্যান্ডের স্পীড 867 Mbps। কিন্তু পোর্ট স্পীড 100 Mbps। সেইসব রাউটারের তুলনায় যেগুলোর পোর্ট স্পীড গিগাবিট সেগুলোর পারফরম্যান্স অনেক ভালো হবে। প্রায় গিগাবিট রাউটারের মতো পারফরম্যান্স পাবেন।

কয়েকটি জনপ্রিয় গিগাবিট রাউটার

  • TP Link Archer c80
  • TP Link Archer AX6000
  • D Link DIR-825
  • TP-Link Archer AX23

এছাড়াও আরো কিছু রাউটার আছে যেগুলো একেবারে গিগাবিট রাউটার বলা না গেলেও প্রায় গিগাবিটের সমানই স্পীড পাওয়া যায়। সেগুলোর পোর্ট স্পীড গিগাবিট। তবে 5 GHz এর স্পীড 867 Mbps। অর্থাৎ 867 Mbps স্পীড পেতে পারেন। যা প্রায় গিগাবিটের সমান। এগুলোর দাম তুলনামূলক কম হয়। এই রাউটারগুলোও নরমাল রাউটার থেকে যথেষ্ট পরিমাণে ভালো এক্সপেরিয়েন্স প্রদান করবে। সেরকম কয়েকটি রাউটার হলো-

  • TP Link Archer c6
  • Cudy WR1300
  • CUDY WR1300E
  • TP-Link EC220-G5

উপসংহার

উচ্চগতির ইন্টারনেটের পূর্ণ সুবিধা পেতে এবং ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে গিগাবিট রাউটার অপরিহার্য। যদিও এটি কিনতে কিছুটা বাড়তি খরচ হতে পারে, তবে এর সুফল অনেক বেশি। তাই, একটি গিগাবিট রাউটার কেনার সময় নিশ্চিত হয়ে নিন যে, রাউটারের WAN এবং LAN পোর্টগুলো গিগাবিট স্পীড সাপোর্ট করে এবং ভ্রান্ত প্রচার থেকে সতর্ক থাকুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top