সিম রেজিস্ট্রেশন চেক এবং রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নিয়ম

সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিটি মডিউল বা সংক্ষেপে SIM হচ্ছে একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। আজকে সিম রেজিস্ট্রেশন চেক ও সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নিয়ম কানুন সম্পর্কে আপনাদের জানাবো।

সিম কার্ডের মাধ্যমে আমরা ফোন কল, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ভিডিও স্ট্রিমিং ইত্যাদি করতে পারি। সিম কেনার সময় রেজিষ্ট্রেশন করে নিতে হয়। নতুন নিয়ম অনুসারে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১৫ টি সিম কিনতে পারেন

তাই ১৫ টি সিম ইতিমধ্যেই আপনার নামে থাকলে আপনি আর কোনো সিম নিতে পারবেন না। এজন্য আপনাকে সিম রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করতে হবে। কিভাবে করবেন জানতে চাইলে পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন।

সিম রেজিস্ট্রেশন চেক এবং রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নিয়ম

সিম নিবন্ধন যাচাই

অনেকেরই প্রশ্ন থাকে, আমার নামে কয়টি সিম আছে? তাই সিম নিবন্ধন যাচাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন আপনার নামে কয়টি সিম রেজিষ্ট্রেশন করা আছে।

সিম রেজিস্ট্রেশন দেখার নিয়ম মূলত ২ টি।

  1. মোবাইলে কোড ডায়াল করে
  2. কাস্টমার সেন্টারে গিয়ে

Nid দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে

আপনার Nid দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে সেটা জানতে খুবই ছোট্ট একটি কাজ করুন।

*16001# ডায়াল করুন

প্রথমে আপনার নিজের একটি সিম থেকে ডায়াল করুন *16001# । এই কোডটি ডায়াল করার পর পরের ধাপে আপনার NID কার্ডের নম্বরের শেষ ৪ টি ডিজিট লিখে send করুন।

ফিরতি ম্যাসেজে আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হবে আপনার নামে কয়টি সিম নিবন্ধন করা আছে, সেগুলো কোন কোন অপারেটরের। একইসাথে নম্বরগুলোর প্রথম ৩ ডিজিট ও শেষ ৩ ডিজিটও দেখতে পাবেন।

কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে

মোবাইল অপারেটরদের কাস্টমার কেয়ারে গিয়েও সিম রেজিস্ট্রেশন চেক করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে যে কোম্পানির কাস্টমার কেয়ারে যাবেন তারা শুধুমাত্র সেই কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন করা সিমের তালিকা আপনাকে দিবে।

এক্ষেত্রে গ্রামীণফোনের কাস্টমার কেয়ারে গেলে রবি সিমের ব্যাপারে জানতে পারবেন না। আবার রবিতে গেলে বাংলালিংক সিমের রেজিস্ট্রেশন তথ্য পাবেন না। অর্থাৎ আপনার NID দিয়ে সর্বমোট কয়ট সিম রেজিস্ট্রেশন করা সেটি জানতে পারবেন।

তবে এক্ষেত্রে একটি সুবিধাও আছে। *16001# ডায়াল করে মোট কয়টি সিম রেজিষ্ট্রেশন করা আছে সেটি জানা গেলেও সম্পূর্ণ সিম নম্বর দেখতে পারবেন না। তবে কাস্টমার কেয়ারে গেলে তারা সম্পূর্ণ নম্বরটি আপনাকে দেখাবে।

সিম রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তন

সিম রেজিস্ট্রেশন তো চেক করলেন। এবার যদি আপনার ব্যবহৃত সিমটি আপনার নামে রেজিস্ট্রেশন করা না থাকে বা নিজের নামে অন্য কাউকে সিম কিনে দিয়ে থাকেন তাহলে খুব দ্রুত সিমের মালিকানা পরিবর্তন করুন।

কারণ অন্যের নামে সিম ব্যবহার করা অবৈধ। একই সাথে আপনি আইনী ঝামেলায়ও পড়তে পারেন।

সিম রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তন করা খুবই সহজ। যেই ব্যক্তির নামে সিম রেজিস্ট্রেশন করা ও যেই ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তন করা হবে তারা উভয়ই নিজেদের আইডি কার্ড নিয়ে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে যেতে হবে।

কাস্টমারে থাকা সদস্যরা ১০-২০ মিনিটে সিম রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তন করে দিবেন।

সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নিয়ম

আপনার নামে যদি অতিরিক্ত সিম নিবন্ধন হয়ে যায় তাহলে রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার দরকার হয়। অথবা আপনার নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম যদি অন্য কেউ চালায় তাহলে দ্রুত সেটি বন্ধ করুন। এজন্য নিচের নিয়মটি ফলো করুন।

দুই পদ্ধতিতে সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা যায়।

  1. হেল্পলাইনে কল করে
  2. কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে সরাসরি গিয়ে

হেল্পলাইনে কল করে

এই পদ্ধতিতে সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার জন্য সিমটি আপনার কাছেই থাকতে হবে। অন্য কারো কাছে থাকলে হবেনা।

প্রথমে আপনার অপারেটরের হেল্পলাইনে কল করুন। তারা আপনার কাছ থেকে কিছু তথ্য জানতে চাইবেন। যেমনঃ লাস্ট রিচার্জ এমাউন্ট, সর্বশেষ কোন নম্বরে কল করা হয়েছে, বর্তমান সিমের ব্যালেন্স ইত্যাদি।

এই তথ্যগুলো দিতে পারলেই হেল্পলাইন থেকে সিমটি বন্ধ করে দেওয়া হবে বা রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে।

সিমটি যদি আপনার কাছে না থাকে বা তথ্যগুলো আপনি না দিতে পারেন তাহলে রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার জন্য অবশ্যই কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যেতে হবে।

কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে

আপনার আইডি কার্ড নিয়ে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যান। তাদেরকে বলুন আপনি সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করতে চান। তারা ১০-২০ মিনিটে কাজটি করে দিবে।

শেষ কথা

নিজের নামে সিম রেজিস্ট্রেশন করে আইনী ঝামেলা থেকে দূরে থাকুন। নিজে রেজিস্ট্রেশন করে সেই অন্যকে ব্যবহার করতে দিবেন না। এক্ষেত্রে সে কোনো অপরাধ করলে তার জন্য আপনাকেও ঝামেলায় পড়তে হতে পারে।

তাই সিম রেজিস্ট্রেশন চেক করুন। অযথা সিম রেজিস্ট্রেশন করা থাকলে সেগুলোর নিবন্ধন বাতিল করুন। নিরাপদে থাকুন আর ট্রিক ব্লগ বিডির সাথেই থাকুন।

Sponsored by TrickBlogBD

ফ্রী মোবাইল রিচার্জ, বিভিন্ন এক্সক্লুসিভ টিপস & ট্রিক্স পেতে ও মতামত জানাতে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করুন।

2 thoughts on “সিম রেজিস্ট্রেশন চেক এবং রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নিয়ম”

  1. সিম রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করার পরে আমার নামে যে রেজিষ্ট্রেশন ছিলো তার কি জানা যাবে?

    1. না, রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করার পর সেই তথ্য পাবেন না। তবে আপনি সিমের কাস্টমার কেয়ার যোগাযোগ করে দেখতে পারেন। পেলেও পেতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top